“যেদিন থেকে এসআইআর শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই কমিশনের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট। কমিশন তুঘলকি কাণ্ড করছে। হিটলারি অত্যাচার চালাচ্ছে।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : এসআইআর ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে একের পর এক তির ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে করে বাংলাদেশে সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, “ওঁদের দেখা উচিত। কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশে ভোট হল। সবাই ভেবেছিল অনেক অশান্তি হবে। কিন্তু দেখলেন কেমন শান্তিপূর্ণভাবে হল? গণতান্ত্রিক ভারতে কমিশনের লজ্জা হওয়া উচিত।”
১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি)। সেই ভোটের উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, অশান্তির আশঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। ভারতে নির্বাচন কমিশনের থ্রেট কালচার গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে দিচ্ছে।
‘এসআইআর’ বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “যেদিন থেকে এসআইআর শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই কমিশনের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট। কমিশন তুঘলকি কাণ্ড করছে। হিটলারি অত্যাচার চালাচ্ছে। আইটি সেলের মাধ্যমে এআই করে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দিলেন একজন বিজেপি কন্যা। জোচ্চুরির চচ্চড়ি চলছে। বিহারে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট, জঙ্গলের অধিকার সার্টিফিকেট দেখালেই চলবে,তবে বাংলায় নয় কেন ? এককথায় বলতে গেলে ভয়ঙ্কর।”
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, বিহারে যে নথি গ্রহণ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে তা বাতিল করা হচ্ছে। “হয়তো দেখবেন অনেকের নাম নেই। দু’নম্বরি চলছে।”
সম্প্রতি সাত জন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও)-কে সাসপেন্ড করেছে কমিশন। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “একটা চোর চুরি করলেও তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে ইআরও-দের বিনা প্রশ্নে সাসপেন্ড করা হচ্ছে কেন?” রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতা কার্যত খর্ব করে কমিশন একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাংলাদেশের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের। নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের জবাব দেয়নি। তবে এই বিতর্ক যে আগামী দিনে আরও চড়বে, তা বলাই বাহুল্য।