বর্ষা এলেই ঘাটালের বিস্তীর্ণ এলাকা জলে ডুবে যায়। সেই জলযন্ত্রণা থেকে এ বার স্থায়ী মুক্তির আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ঘাটালের বীরসিংহ গ্রামে দাঁড়িয়ে তাঁর ঘোষণা, আগামী বছরের জুনের মধ্যে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের বেশির ভাগ কাজ এগিয়ে যাবে। এ দিন সভায় যাওয়ার আগে কপ্টার থেকে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনও করেন তিনি।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
বীরসিংহের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার ৫০ শতাংশ করে অর্থ দেবে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তরফেও অর্থ বরাদ্দ করা হবে। রাজ্যের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ১২০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে বলে জানান তিনি। জমি অধিগ্রহণের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। পুজোর পরেই প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু বলেন, ‘‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এত দিন শুধু ভাষণেই সীমাবদ্ধ ছিল। এ বার কাজ করতে হবে। জুনের মধ্যে কাজ অনেকটা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’’ দাসপুর এবং ঘাটালের বিধায়কদেরও প্রকল্পের কাজের উপর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, ঘাটালের নদীপাড়ে থাকা কাঁচা বাড়িগুলি নিয়েও কড়া নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্রুত সেই বাড়িগুলির তালিকা তৈরির কথা বলেন তিনি। প্রতিটি কাঁচা বাড়ির মালিককে রাজ্য সরকার ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে দেবে বলেও ঘোষণা করেন।
শীলাবতী, কংসাবতী এবং দ্বারকেশ্বরের শাখা নদী ঝুমিকে ঘিরে গড়ে ওঠা ঘাটাল দীর্ঘ দিন ধরেই বন্যাপ্রবণ। এলাকায় এখনও টিকে থাকা পুরনো জমিদারি বাঁধগুলির একাংশ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্ষায় সেই বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায়।
অন্য দিকে, নদীতে ক্রমাগত পলি জমায় কমছে জলধারণ ক্ষমতাও। ফলে প্রতি বছর বন্যার প্রকোপ বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এই সমস্যা মোকাবিলাতেই দীর্ঘ দিন ধরে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের দাবি উঠেছে।
আগের সরকারের আমলে প্রকল্পের কাজ আশানুরূপ এগোয়নি বলে অভিযোগ ছিল। ক্ষমতার পালাবদলের পর এ বার নতুন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের আশায় বুক বাঁধছেন ঘাটালের বাসিন্দারা। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি কবে বাস্তব কাজের রূপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে তাঁরা।