‘সারথি’ প্রকল্পের সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর

প্রায় ১২ লক্ষের বেশি পড়ুয়ার হাতে সাইকেল তুলে দেওয়ার ভাবনা। আর সবুজ সাথী নয়, এবার সারথি প্রকল্পের সূচনা। মঙ্গলবার হাওড়ার ব্যাঁটরার মধুসূদন পাল চৌধুরী হাইস্কুলে এই ‘সারথি’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

রণজিৎ রায়, নিজস্ব সংবাদদাতা

স্কুলপড়ুয়াদের যাতায়াত সহজ করা এবং তাঁদের পড়াশোনা ও শরীরচর্চায় উৎসাহ দিতে মঙ্গলবার, ‘সারথি’ প্রকল্পের সূচনা করল রাজ্য সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলের ১২ লক্ষ ৫৯ হাজার পড়ুয়ার হাতে সাইকেল তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে রাজ্যের রাজকোষ থেকে খরচ হবে প্রায় ৫০৮ কোটি টাকা। হাওড়ার ব্যাঁটরা মধুসূদন পালচৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দুপুর ১২টায় প্রকল্পের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

হাওড়ার ব্যাঁটরার স্কুল থেকে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘‘কথা দিয়েছিলাম, নতুন প্রকল্প চালু হবে। শুধু নাম-লোগো পরিবর্তন করে নয়, গুণমান পরীক্ষার ব্যবস্থাও থাকবে। সাইকেলে উপযুক্ত আলো এবং টায়ারের ব্যবস্থা হয়েছে, মান উন্নয়ন করা হয়েছে। স্কুলপড়ুয়াদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এটা আমরা করেছি। এবার থেকে অষ্টম শ্রেণি থেকে সাইকেল দেওয়া হবে ”

বিগত তৃণমূল সরকারকে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য, ‘‘অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, বন্ধ প্রকল্প চালু হবে কি না। আমরা তা চালু করে দিলাম। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আত্মীয়রা এই কাজ করতেন। আমরা এবার সব পালটে দিয়েছি। আগে পাঞ্জাব থেকে যন্ত্রাংশ এনে এখানে সাইকেল তৈরি হতো। এবার থেকে আমরা সবটা রাজ্যেই তৈরি করবো। সাইকেল কারখানার জন্য জমি দেব আমরা।”

মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, যাঁরা এ রাজ্যে কারখানা করতে চান, তাঁদের বিনামূল্যে জমি দেবে সরকার। ছাত্রছাত্রীদের বেশ কিছু উপদেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোবাইল কম ব্যবহারের আবেদন করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ছাত্রছাত্রীদের স্মার্ট ট্যাব দেওয়া হবে। বিভিন্ন স্কুলকে স্মার্ট স্কুল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। স্কুলে এনসিসি চালু হবে।’’

অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ বিভাগের মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকারের বক্তব্য, সাইকেল শুধু বিদ্যালয়ে যাতায়াতের মাধ্যম নয়, নিয়মিত স্কুলে আসা, পড়াশোনায় মন দেওয়া এবং শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও তা ভূমিকা রাখবে।

বিশেষত দূরের এলাকা থেকে স্কুলে আসা পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে যাতায়াতের সমস্যা কমানোই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এর ফলে স্কুলে উপস্থিতি ধরে রাখা এবং পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষার পথে পড়ুয়াদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের আশা।

এদিন হাওড়ার ব্যাঁটরার স্কুলের পড়ুয়াদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে মিড ডে মিল খেতে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। তারপরই তাঁর ঘোষণা, কলকাতার পর এবার হাওড়ার বিভিন্ন স্কুলে ইসকনের মিড-ডে মিল পৌঁছে দেওয়া হবে।