বিজেপি ও কমিশনকে তীব্র নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

“ওরা ভাবে আমরা কিছু জানি না। কোথায় কোথায় ব্রিফকেসে টাকা যাচ্ছে, কোন কেন্দ্রীয় এজেন্সি কার বাড়িতে ঢুকছে—সব খবর আমাদের কাছে আছে।”

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : উত্তরবঙ্গের নির্বাচনী ময়দানে ফের তীব্র আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee). দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরে জনসভা সেরে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে পৌঁছে একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্র ও বিজেপির (Bharatiya Janata Party) বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দুর্নীতি, ভোট প্রক্রিয়া, কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের সুর।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওরা ভাবে আমরা কিছু জানি না। কোথায় কোথায় ব্রিফকেসে টাকা যাচ্ছে, কোন কেন্দ্রীয় এজেন্সি কার বাড়িতে ঢুকছে—সব খবর আমাদের কাছে আছে। সময় এলেই প্রকাশ করব।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে বাংলার গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে।

রাজ্যের মানুষকে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর চেয়ে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, তা যেন কোনওভাবেই বিশ্বাস না করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “এভাবেই প্রতারণা করে মানুষের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।” সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে সবাইকে সচেতন থাকার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি প্রশাসনিক স্তরে প্রভাব খাটিয়ে বিরোধী প্রার্থীদের বাতিল করার চেষ্টা করছে। “ওদের গেমপ্ল্যান ভেস্তে দিতে হবে,”—জোর গলায় বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজনৈতিক আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা বাংলার সর্বনাশ চায়, তাদের বিনাশ করব।” তিনি বিজেপিকে “অত্যাচারী” ও “স্বৈরাচারী” সরকার বলেও কটাক্ষ করেন। একইসঙ্গে দাবি করেন, তাঁর সরকার মানুষের জন্য কাজ করে দেখিয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, যুবসাথী প্রকল্প চালু করা—এসব উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমরা বলি না, আমরা করে দেখাই।”

বাইরের লোক এনে অশান্তি তৈরির অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “টাকা আর গুন্ডা এনে বাংলার বদনাম করা হচ্ছে।” সব মিলিয়ে রায়গঞ্জের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন—আসন্ন নির্বাচনে লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই, বরং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক কৌশলেই এগোবে তৃণমূল কংগ্রেস।