CM Mamata Banerjee at Gangasagar: অবশেষে স্বপ্ন পূরণ সাগরদ্বীপের বাসিন্দাদের। বহু প্রতীক্ষিত মুড়িগঙ্গা নদীর উপর “গঙ্গাসাগর সেতু”-র শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : আমরা মুখে বলি না, কাজে করি, গঙ্গাসাগর সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন এখানকার মানুষজন। গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করে এলএন্ডটিকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হল। তারা টেন্ডার পেয়েছে। ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা খরচ করে এই উপহার দিচ্ছে রাজ্য সরকার।যাতে ২-৩ বছরে এই সেতু তৈরি হয়ে যায়।
আজ ঐতিহাসিক দিন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হল। মুড়িগঙ্গা নদীতে কাকদ্বীপের লট এইট ও কচুবেড়িয়ার মধ্যে এই তৈরি হচ্ছে এই ৪ লেনের সেতু। খরচ হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। জ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুড়িগঙ্গার উপর তৈরি হবে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের সেতু। উভয়পাশে থাকবে ১.৫ মিটার চওড়া ফুটপাত।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এই সুন্দরবন অঞ্চল দুর্গম ও বিপজ্জনক। মানুষের জীবনে আশীর্বাদস্বরূপ হিসেবে উঠে আসতে চলেছে এই সেতু। এই সেতু চালু হলে ৩ লক্ষ মানুষের যাতায়াত ও ব্যবসার সুবিধা হবে। কমবে জিনিসপত্রের দাম। কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এছাড়া কৃষিজাত দ্রব্যও পৌঁছে যাবে অল্প খরচে। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উদ্ধারকাজেও এই সেতু অনেক সুবিধা করে দেবে।”
ইতিমধ্যে সেতুর নকশাও চূড়ান্ত হয়েছে। সেতু তৈরির দায়িত্বে রয়েছে নির্মাণ সংস্থা এল অ্যান্ড টি। জানা গিয়েছে, সেতুটি দ্বিতীয় হুগলি সেতু বা নিবেদিতা সেতুর আদলে তৈরি করা হবে। শুধু তাই নয়, সেতু নির্মাণে জমির অধিগ্রহণের কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। গঙ্গাসাগর সেতুর জন্য কাকদ্বীপের অংশে ৭.৯৫ একর এবং কচুবেড়িয়া অংশে ৫.০১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বাকি জমি অধিগ্রহণের কাজ খুব শীঘ্রই শেষ করা হবে। প্রায় ছয়বছর আগে মুড়িগঙ্গার উপর একটি সেতু তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এজন্য একাধিকবার কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সাহায্যের জন্য দরবার করে রাজ্য সরকার। অবশেষে সাগরদ্বীপের মানুষ এবং গঙ্গাসাগর মেলায় আসা পুণ্যার্থীদের কথা ভেবে নিজেই সেতু গড়ার উদ্যোগ নেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ২০২৩ সালে সাগরের মাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, কেন্দ্রের দিকে আর চাতক পাখি হয়ে লাভ নেই, রাজ্য সরকারই নিজের উদ্যোগে গঙ্গাসাগর সেতু গড়ে তুলবে। তারপরই শুরু হয় টেন্ডারের প্রক্রিয়া। নানা বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে অবশেষে শিলান্যাসের পথে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের গঙ্গাসাগর সেতু।

পুণ্যার্থীদের জন্য যাত্রী নিবাসেরও শুভ উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গঙ্গাসাগর মেলার ভৌগলিক পরিচিতি কম আকর্ষণীয় নয়। বাংলার তীর্থ মিলন ক্ষেত্র গঙ্গাসাগরকে ঘিরে ৪৩টি গ্রাম রয়েছে। যার জনসংখ্যা আনুমানিক ১ লক্ষ ৯০ হাজার থেকে ২ লক্ষ ১০ হাজার। স্থানীয় মানুষের জীবিকা কৃষিনির্ভর হাওয়ায় গাঙ্গাসাগরের পরিকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিতভাবে হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এখনও ঘটেনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সবরকম চেষ্টা করে গঙ্গাসাগরের সামগ্রিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। এমনকি গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের চেষ্টাও করছেন।