খেলা হবে দিবস’-এ মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ও বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়নের খতিয়ান প্রকাশ

আজ ‘খেলা হবে দিবস’। এই উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকল ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়াপ্রেমী এবং রাজ্যের বিভিন্ন ক্লাবকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল এবং মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে।

সঞ্জু সুর, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১১ সালের পর থেকে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের বাজেট বরাদ্দ ১২৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে হয়েছে ৮৪০ কোটি টাকা। এই সময়ে রাজ্যে তৈরি হয়েছে ৫৮টি স্টেডিয়াম, ৪২টি যুব হোস্টেল, ৫টি ইন্ডোর স্টেডিয়াম, ৭৯৫টি মিনি-ইন্ডোর স্টেডিয়াম, ৪ হাজারেরও বেশি মাল্টি-জিম, ৬টি সুইমিং পুল এবং ৪২৩টি খেলার মাঠ। এছাড়া চালু হয়েছে ৮টি স্পোর্টস অ্যাকাডেমি—যার মধ্যে রয়েছে ফুটবল, মহিলা ফুটবল, তীরন্দাজি, টেনিস, টেবিল টেনিস, সাঁতার, রাইফেল শ্যুটিং এবং ব্যাডমিন্টন। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে দেওয়া হয়েছে ‘বঙ্গ বিভূষণ’ সম্মান এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২৭ কোটিরও বেশি অনুদান।

‘খেলাশ্রী’ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৪ হাজারেরও বেশি ক্লাবকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান, ১,৩৫২টি কোচিং ক্যাম্পকে আর্থিক সহায়তা এবং ৩৪টি ক্রীড়া সংস্থাকে বার্ষিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। সন্তোষ ট্রফি জয়ী বাংলার ২১ জন ফুটবলারকে দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশের চাকরি। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সুন্দরবন কাপ, জঙ্গলমহল কাপ, হিমূল-তরাই-ডুয়ার্স কাপ ও রাঙামাটি কাপ আয়োজন করে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের যুবকদের মূলস্রোতে আনা হচ্ছে। এছাড়াও ৪৬০ জন বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদকে বিভিন্ন পুরস্কার, ১,৫৮০ জনকে মাসিক পেনশন প্রদান করা হচ্ছে। বাংলার ২১ জন এভারেস্ট জয়ী পর্বতারোহীর সম্মানে চালু হয়েছে ‘রাধানাথ শিকদার-তেনজিং নোরগে অ্যাওয়ার্ড’ এবং মহিলাদের জন্য ‘ছন্দা গায়েন সাহসিকতা পুরস্কার’।

যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য চালু হয়েছে ১২ টি যুব বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৯১২টি যুব কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছেন, আগামীদিনেও বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি খেলা হবে দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি নিজে ডায়মন্ড হারবার ফুটবল ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।