যুবকের মুখে শব্দবাজি ঢুকিয়ে আগুন ধরিয়ে দিল সিভিক!

প্রশান্ত দাস, নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। দুর্গাপুজো শেষ। এবার উমার বাপের বাড়ি ছেড়ে কৈলাসে পাড়ি দেওয়ার পালা। সেইমতো দশমীতে দেবীমূর্তি বিসর্জনের মাধ্যমে সেই যাত্রা শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সেই বিসর্জনের আনন্দেই ঘটে গেল নৃশংস ঘটনা। বিতর্কে নাম জড়াল সিভিক ভলান্টিয়ারের। বীরভূম জেলার মারগ্রাম থানার অন্তর্গত চাঁদপাড়া গ্রাম। বৃহস্পতিবার রাত ৯ টা নাগাদ এক ভয়াবহ ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা গ্রামজুড়ে। যখন উৎসবের আমেজে মেতেছে গোটা বীরভূম, ঠিক সেই সময়েই ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে ওই গ্রামের পুলিশের বিরুদ্ধে। ২৪ বছর বয়সী এক যুবকের মুখের ভিতরে নিষিদ্ধ বাজি ফাটানোর অভিযোগ উঠেছে। যুবকের নাম হেমন্ত বাগদি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ হেমন্ত ও তাঁর স্ত্রী প্রতিমা বিসর্জন দেখতে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় চাঁদপাড়ার ভিলেজ পুলিশ ওই যুবকের মুখে শব্দবাজি ভরে আগুন দিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন হেমন্ত। স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাঁকে উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।


হেমন্তের পরিবারের দাবি করেছেন, ওই বাজি ছিল বিপজ্জনক ‘ব্ল্যাক ক্যাট’। যদিও পুলিশ সূত্রে জানতে পারা যাচ্ছে ওই বাজি সম্ভবত ‘কালি ফটকা’। ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। এটি কি কেবলই নিষিদ্ধ বাজি ফাটানো ঠেকাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ বা ব্যক্তিগত আক্রোশের রয়েছে কিনা— তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন গ্রামবাসীরা। ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। প্রতিবাদস্বরূপ বিসর্জন মিছিলও বন্ধ করে দেন।
বর্তমানে পুরো চাঁদপাড়া গ্রামে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত ভিলেজ পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু কি কারণের জন্য এই ঘটনা ঘটলো তা এখনও স্পষ্ট নয়।