দিল্লিতে নামতেই বিমানের ভিতর থেকে আটক সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা!

দীপকে ছাড়াও আটক করা হয়েছে সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে। বিমানের ভিতরে পুলিশের সঙ্গে সিজেপি নেতাদের বাগ্‌বিতণ্ডার দৃশ্য সমাজমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন দীপকে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আগেই ফের ধরপাকড়। এ বার বিমান থেকে নামার আগেই আটক করা হল কক্‌রোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ তিন নেতাকে। শনিবার সকালে মুম্বই থেকে দিল্লিতে পৌঁছনোর পর বিমানের ভিতরেই তাঁদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। দীপকে ছাড়াও আটক করা হয়েছে সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে। বিমানের ভিতরে পুলিশের সঙ্গে সিজেপি নেতাদের বাগ্‌বিতণ্ডার দৃশ্য সমাজমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন দীপকে।

দীপকের পোস্ট করা ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, বিমানের ভিতরে ঢুকে পড়েছেন মহিলা পুলিশকর্মীরা। তাঁদের দেখে সিজেপি নেতারা প্রশ্ন তোলেন, বিমান থেকে নামার পর তাঁদের আটক করা যেত না কেন? পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে দীপকেকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আপনারা আমাদের বিমান থেকে নামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারতেন। গ্রেফতার করুন, আমরা ভয় পাই না।’’ এর পরেই তিন নেতাকে বিমানবন্দর থেকে অন্যত্র নিয়ে যায় পুলিশ। তাঁদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

শনিবার সকালে যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিতে মুম্বই থেকে দিল্লি এসেছিলেন দীপকে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি। দলের তরফে এক বিবৃতিতে এই আটকের ঘটনাকে ‘কর্তৃত্ববাদী পদক্ষেপ’ বলে নিন্দা করা হয়েছে। সিজেপির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই নেতৃত্বকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিত ভাবে এই পদক্ষেপ করেছে দিল্লি পুলিশ। সিজেপির এই তিন নেতাকে অবিলম্বে এবং নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে, এই দাবিও জানিয়েছেন তারা।

এর আগে শনিবার সকালে গুরুগ্রামে নিজের বাড়ি থেকে আটক করা হয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং সিজেপির আইনজীবী শাখার প্রধান রত্না সিংকে। তাদের বিক্ষোভে যাওয়া আটকাতেই এই পদক্ষেপ বলে অভিযোগ।

শুক্রবারই অনুমতি চাওয়ার ক্ষেত্রে দেরির যুক্তি দেখিয়ে সিজেপির কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের আটকাতে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাতভর চারশোরও বেশি সন্দেহভাজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। বন্ধ রাখা হয়েছে ৪৫টি মেট্রো স্টেশন, বাতিল হয়েছে একাধিক ট্রেন। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর ২০ হাজারেরও বেশি কর্মী মোতায়েন করেছে কেন্দ্র। সব মিলিয়ে বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা তুঙ্গে।