শেষ গঙ্গাসাগর মেলায় সমুদ্র সৈকত সাফাই অভিযানে ঝাঁটা হাতে ৬ মন্ত্রী

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : “সৈকত পরিষ্কার আমাদের অঙ্গীকার”—এই বার্তাকে সামনে রেখে শেষ গঙ্গাসাগর মেলায় এক ব্যতিক্রমী ছবি ধরা পড়ল। মেলা সমাপ্তির পর সমুদ্র সৈকতে ঝাঁটা হাতে নেমে পড়লেন রাজ্যের ৬ জন মন্ত্রী। প্রশাসনিক দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে নিজেরাই হাতে-কলমে সৈকত পরিষ্কারের কাজে অংশ নিলেন তাঁরা।
লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগমে গঙ্গাসাগর মেলায় বিপুল পরিমাণ আবর্জনা জমে ওঠে। প্লাস্টিক, থার্মোকলের প্লেট, খাবারের প্যাকেটসহ নানা বর্জ্যে ভরে যায় বেলাভূমি। মেলা শেষ হতেই দ্রুত স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই ছিল প্রশাসনের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যকে আরও জোরালো করতে মন্ত্রীদের এই প্রতীকী উদ্যোগ বলে মনে করছেন অনেকে। উপস্থিত ছিলেন, রাজ্যের রাজ্যের বিদ্যুৎ ও আবাসন দফতরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন পুলক রায় জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের মন্ত্রী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৃষি ও বিপণন বিভাগের মন্ত্রী বেচারাম মান্না। উপস্থিত ছিলেন পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অগ্নি নির্বাপন এবং দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
ঝাঁটা হাতে মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগ দেন প্রশাসনের আধিকারিক, সাফাই কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরাও। সমুদ্র সৈকত জুড়ে চলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। মন্ত্রীদের বক্তব্য, “গঙ্গাসাগর শুধু ধর্মীয় তীর্থ নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। সৈকত পরিষ্কার রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব। এই বার্তা সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছে দিতে চাই।”মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, ইতিমধ্যে ১ কোটি ৩০ লক্ষ পুণ্যার্থী এই গঙ্গাসাগরে এসেছে। পুণ্যার্থীরা জানিয়েছে গঙ্গাসাগর মেলা জাতীয় মেলা। মানুষ স্বীকৃতি দিয়েছে আমাদের আর করোর স্বীকৃতির প্রায়োজন নেই।
পুণ্যার্থীরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকেই বলছেন, মন্ত্রীদের এমন উদ্যোগ দেখে সাধারণ মানুষও ভবিষ্যতে সৈকত সাফাইয়ের বিষয়ে আরও সচেতন হবেন। শেষ গঙ্গাসাগর মেলায় তাই শুধু পুণ্যের স্মৃতিই নয়, পরিবেশ রক্ষার এক ইতিবাচক বার্তাও রেখে গেল এই উদ্যোগ।