এবার মেঘ ভাঙা বৃষ্টি কাশ্মীরের কাঠুয়ায়, মৃত কমপক্ষে ৪

লাগাতার বৃষ্টি আর ধসে বিধ্বস্ত কাশ্মীর। এবার মেঘ ভাঙা বৃষ্টি কাশ্মীরের কাঠুয়ায়। যার জেরে প্রাণ হারালেন কমপক্ষে ৪ জন।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়ায় মেঘভাঙা বৃষ্টি আর তার জেরে শনিবার ভয়ঙ্কর হড়পা বান নেমে এল বসতি এলাকায়। শনিবার গভীর রাতে কাঠুয়ার জাংলোটের একটি গ্রামে মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়। মাঝ রাতে হড়পা বান মেনে আসায় অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে পারেননি। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এই দুর্যোগে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। কত জন নিখোঁজ হয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে হড়পা বানে বহু বাড়ি ভেসে গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

এই ভয়াবহ মেঘ ভাঙা বৃষ্টি আর ধসের জেরে কাঠুয়ার বাড়ি-ঘর এবং জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কাঠুয়া থানার মধ্যেও জল ঢুকে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, কাঠুয়া থানা এলাকার চাঙ্গদা এবং বাগার্দ গ্রামেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ধসের জেরে। এ ছাড়া লাখানপুর থানা এলাকার দিলওয়ান-হুতলি গ্রামে এর প্রভাব পড়লেও সেখানে ক্ষতির পরিমাণ তুলনায় অনেক কম।

গত বৃহস্পতিবারই মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কাশ্মীরের চাসোটি। সেখানে অন্তত ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চাসোটি এখনও পর্যন্ত এই হড়পা বানের ক্ষত সারিয়ে উঠতে পারেনি। এখনও পাঁচশোর বেশি মানুষ আটকে রয়েছেন বলেই আশঙ্কা। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। বাতিল করেন স্বাধীনতা দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুরের সাংসদ জীতেন্দ্র যাদব, তিনি জানিয়েছেন, মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে একটি পুলিশ স্টেশন, ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ও রেলওয়ে ট্র্যাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। সেনা ও প্যারামিলিটারি ফোর্সও উদ্ধার অভিযানে নেমেছে। রবিবারেও কাঠুয়া জেলায় আজ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। নদী, নালার তীরে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। ধস প্রবণ এলাকাগুলিও এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। নদীর জলস্তর বেড়ে হড়পা বান ও ধসের সম্ভাবনা রয়েছে। লাগাতার বৃষ্টির জেরে নদী এবং অন্যান্য এলাকায় বাড়ছে জলস্তর। তাই আমজনতাকে আপাতত ওই এলাকাগুলি থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।