ময়নাগুড়িতে কেন্দ্র ও কমিশনকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

“এ দিকে এক ভদ্রলোক, আর দিল্লিতে দুই ভদ্রলোক— এক, দুই, তিন… ওদের বিদায় দিন।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়ি থেকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্নপূর্ণা পুজোর শুভ দিনে প্রথম নির্বাচনী সভা। তাই শুরুতেই নেত্রী বলেন, “মা অন্নপূর্ণাকে সাক্ষী রেখে আমি নির্বাচনী প্রচার শুরু করলাম।”

বুধবার ময়নাগুড়ি টাউন ক্লাব মাঠে তৃণমূলের প্রথম জনসভায় দলীয় প্রার্থী রামমোহন রায়ের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সভার শুরু থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সুর শোনা যায় তাঁর গলায়। অভিযোগ করে বলেন, “শুনলাম আমার প্রার্থীকে বিজেপির এক মন্ত্রী গাছে বেঁধে পেটানোর হুমকি দিয়েছে। গাছটা আমাদের, সবুজটাও আমাদের। গাছ বাঁধার জন্য নয়।”

নাম না করে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেও নিশানা করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “এ দিকে এক ভদ্রলোক, আর দিল্লিতে দুই ভদ্রলোক— এক, দুই, তিন… ওদের বিদায় দিন।”

বিজেপির নীতির সমালোচনা করে তিনি নোটবন্দি, আধার সংক্রান্ত লাইনে দাঁড়ানো এবং গ্যাসের দামের প্রসঙ্গও তোলেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “গ্যাস বেলুনের গ্যাস বেরিয়ে গিয়েছে। মানুষ খেতে পাবে না, আবার পুরনো দিনে ফিরে যেতে হবে।”

উত্তরবঙ্গের কৃষকদের আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত আলুচাষিদের শস্যবিমার আওতায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। “চিন্তার কোনও কারণ নেই, আগে থেকেই ব্যবস্থা করা আছে।”

এছাড়া নাগরিকত্ব ইস্যুতে কেন্দ্রের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, “আমি বেঁচে থাকতে এনআরসি করতে দেব না, ডিটেনশন ক্যাম্পও হতে দেব না।” একইসঙ্গে নেত্রীর অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনকেও তীব্র আক্রমণ করে নেত্রী বলেন, “কমিশনের কাগজে বিজেপির স্ট্যাম্প! কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির পতাকা নিয়ে ঘুরছে— এটা লজ্জার।” পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “নিজেদের কাজ সম্মানের সঙ্গে করুন, বিজেপির পোলিং এজেন্ট হয়ে যাবেন না।”

মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পেট্রোল-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে, যদিও তা রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমার হাতে একটাই আছে— মানুষ,” মন্তব্য তাঁর।

সভা থেকে তৃণমূলের বিভিন্ন প্রকল্প যেমন লক্ষ্মীর ভান্ডার, চা-বাগান সংক্রান্ত উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, উন্নয়ন এবং সামাজিক প্রকল্প চালিয়ে যেতে তৃণমূলকেই ভোট দিন।

উত্তরবঙ্গ থেকে প্রচার শুরু করে মমতা স্পষ্ট বার্তা দিলেন—এই নির্বাচনে লড়াই হবে সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে, এবং সেই লড়াইয়ে জনসমর্থনই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।