প্রধানমন্ত্রীর বার্তা মেনে কনভয়ে কাটছাঁট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

জ্বালানি সংকটের আবহে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার প্রভাব পড়ল বাংলার প্রশাসনিক অন্দরেও।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার জেরে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। মোদীর সেই বার্তার প্রভাব এ বার পড়ল বাংলার প্রশাসনিক অন্দরেও। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বুধবার জানালেন, তাঁর কনভয়ে থাকা অপ্রয়োজনীয় গাড়ি কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ অপ্রয়োজনীয় গাড়িগুলো সরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছি নিরাপত্তারক্ষীদের।’’

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বর্তমানে জেড প্লাস নিরাপত্তা পান শুভেন্দু অধিকারী। তার পাশাপাশি রয়েছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বলয়ও। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর কনভয়ে একাধিক গাড়ি থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই কনভয়ে কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নবান্ন সূত্রের খবর, নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে যতগুলি গাড়ি রাখা বাধ্যতামূলক, শুধুমাত্র ততগুলিই রাখা হবে।

বুধবার বিধানসভায় ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু। তাঁর সঙ্গে শপথ নেন বিজেপির আরও কয়েক জন নবনির্বাচিত বিধায়ক এবং মন্ত্রিসভার সদস্যেরা। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথগ্রহণের পর বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী কনভয়ের গাড়ি কমানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এ দিন বিজেপি বিধায়কদের একাংশও প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে গণপরিবহণ ব্যবহার করেন। ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে বাসে করেই তাঁরা বিধানসভায় শপথ নিতে যান। দলের একাধিক নেতার বক্তব্য, জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে কেন্দ্রের বার্তাকে বাস্তব রূপ দিতেই এই উদ্যোগ।

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শুধু সাধারণ মানুষকেই সংযমের বার্তা দেননি, নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যাও ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই পথে হাঁটেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।

এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিরকারীর নামও। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, প্রতীকী বার্তাও বটে। একদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা, অন্য দিকে সরকারি ব্যয়ে সংযমের ইঙ্গিত— দুই দিক থেকেই শুভেন্দুর এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।