দল গঠনের পর থেকেই জোরকদমে সদস্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৪০ হাজার সদস্য জুটে গিয়েছে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : নাম শুনেই কেউ ভুরু কুঁচকোচ্ছেন, কেউ আবার হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছেন। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘আরশোলা জনতা পার্টি’— মাত্র দু’দিনের পুরনো এই রাজনৈতিক মঞ্চ এখন সমাজমাধ্যমের অন্যতম চর্চিত বিষয়। নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে, “যুবদের দ্বারা, যুবদের জন্য, যুবদের রাজনৈতিক মঞ্চ” হিসেবে। আর দলের মূলমন্ত্র— “ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক, অলস”।
দল গঠনের পর থেকেই জোরকদমে সদস্য সংগ্রহ শুরু করেছে তারা। দাবি, ইতিমধ্যেই ৪০ হাজার সদস্য জুটে গিয়েছে। এক্স, ইনস্টাগ্রাম এবং অন্যান্য সমাজমাধ্যমে দ্রুত বেড়েছে ফলোয়ারের সংখ্যাও। শুধু সাধারণ যুবক-যুবতীরাই নন, রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে এই দল নিয়ে কৌতূহল। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) সমাজমাধ্যমে রসিকতা করে লিখেছেন, তিনি এই দলে যোগ দিতে চান। আর এক তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ (Kirti Azad) জানতে চান, দলে যোগ দেওয়ার যোগ্যতা কী। উত্তরে আরশোলা জনতা পার্টির খোঁচা, “১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জেতাই যথেষ্ট”।
কিন্তু কে তৈরি করলেন এই দল? বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এর নেপথ্যে রয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি আগে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের (Arvind Kejriwal) আম আদমি পার্টির সমাজমাধ্যম প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও তিনি কাজ করেছেন বলে জানা যাচ্ছে।
দলের নাম নিয়েও শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার যুবকদের ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, সমাজে ইতিমধ্যেই এমন ‘পরজীবী’ রয়েছে যারা দেশের ব্যবস্থা ও মানুষকে আক্রমণ করে, এবং বেকার যুবকদের একাংশ কর্মসংস্থান না পেয়ে ‘মিডিয়া’, ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ বা ‘আরটিআই কর্মী’ হয়ে এই ‘ব্যবস্থাকে’ আক্রমণ করা শুরু করে। তাঁর এই মন্তব্য দেশের বেকারত্ব এবং নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। দিল্লি হাইকোর্টে একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট পদমর্যাদা চেয়ে এক আইনজীবীর করা পিটিশনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এই মন্তব্য করে।
যদিও পরে প্রধান বিচারপতি দাবি করেন, তাঁর মন্তব্য ভুল ভাবে উদ্ধৃত হয়েছে। সেই বিতর্ককেই ব্যঙ্গ করেই ‘আরশোলা জনতা পার্টি’ নামটি বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
দলের সমাজমাধ্যম পাতায় ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে কৃত্রিম মেধা বা এআই-নির্ভর গান। সেখানে শোনা যাচ্ছে, “আমরা আরশোলা পার্টি, জ্বলন্ত শহরের সন্তান।” তরুণদের টানতে ভার্চুয়াল সম্মেলনের ডাকও দিয়েছে তারা। সদস্য হওয়ার শর্তেও রয়েছে ব্যঙ্গের ছোঁয়া— বেকার হতে হবে, অলস হতে হবে, সারাক্ষণ অনলাইনে থাকতে হবে এবং পেশাদারিভাবে অভিযোগ করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
তবে শুধুই হাসিঠাট্টা নয়, রাজনৈতিক বার্তাও দিচ্ছে এই নতুন মঞ্চ। পরীক্ষায় দুর্নীতি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, দলবদল এবং সংসদে মহিলাদের ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের দাবিতে সরব হয়েছে তারা। সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ (Anjali Bhardwaj) তথ্য জানার অধিকার আইন মেনে চলা এবং গোপন অনুদান না নেওয়ার প্রস্তাব দিলে, সেটিও গ্রহণ করেছে দল।
এই মঞ্চ আদৌ ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিকভাবে বড়সড় পদক্ষেপ করবে নাকি সমাজমাধ্যম নির্ভর রাজনৈতিক ব্যঙ্গ হিসেবেই থেকে যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মাত্র দু’দিনেই যে তারা আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।