সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক। মমতার বিরুদ্ধে শিলিগুড়ি সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে শিলিগুড়ি সাইবার থানায় এফআইআর। লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় (Rinki Chatterjee Singh)। দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জনসভা, রাজনৈতিক মঞ্চ এবং সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে মমতা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী সম্পর্কে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা জনমনে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস তৈরি করতে পারে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন এবং ভোটের সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। অভিযোগকারীর দাবি, এ ধরনের বক্তব্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি করতে পারে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২ জুন কলকাতার রানী রাসমণি স্মরণে আয়োজিত এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মমতা দাবি করেন যে, তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গোপন স্তরে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় সরকার এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বলেও অভিযোগ। অভিযোগকারীর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কেও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগেও মমতার বিরুদ্ধে আর একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। গত সপ্তাহে তাঁর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর নথিভুক্ত হয় বলে জানা যায়। সেই অভিযোগেও আবেদনকারী ছিলেন রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সিং। অভিযোগে দাবি করা হয়, গত বছর কলকাতায় ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা সনাতন ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন। অভিযোগকারীর দাবি, ওই মন্তব্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে।
এ ছাড়াও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে ঘিরে মমতার একটি মন্তব্যেরও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই মন্তব্য ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সামাজিক বিভাজন উস্কে দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
যদিও অভিযোগগুলির বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত নেবে।