চলছে দর কষাকষি, নির্বাচনের আগে ভাঙন লালুর দলে?

আরজেডির অন্দরে প্রতীক বিলি নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে। লালুর বাসভবনে বিক্ষোভ কর্মীদের। সামাল দিল তেজস্বী।

ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: গভীর রাতে ঘটে গেল এক আশ্চর্যজনক ঘটনা। যা ব্যাপক আলোড়ন ফেলে দিল বিহারের রাজনীতিতে। সোমবার সন্ধ্যায় বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাষ্ট্রীয় জনতা দল যাদের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে দলীয় প্রতীক দিয়েছিল, তাদেরকে বলা হয় সেই দলীয় প্রতীক ফেরত দিতে হবে। এই খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই শোরগোল পড়ে যায় বিহারের রাজনীতিতে।

আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদব সোমবার দিল্লি থেকে বিহারে ফিরে গিয়েছিলেন। তিনি বাড়িতে পৌঁছে দেখেন গেটের বাইরে কর্মীদের ভিড়। তাদের মধ্যে বহু দলীয় সদস্য নির্বাচনের টিকিট চেয়েছিলেন। তারপর কিছু প্রার্থী যারা দলীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে ফোন পেয়েছিলেন, তাঁরা লালুর বাড়ির ভিতরে যান। কয়েক মিনিট পরে, তারা হাতে একটি হলুদ খাম নিয়ে বেরিয়ে আসেন। জানা যাচ্ছে, খামে প্রার্থীকে দলের নির্বাচনী প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করার দলীয় নথি ছিল।

কিছুক্ষণ পরে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদব, দিল্লি থেকে ফিরে আসার পর তাঁর পটনার বাসভবনে পৌঁছন। সেই সন্ধ্যায় প্রতীক পাওয়া সমস্ত আরজেডি নেতাদের একটি ফোন কল আসে এবং নেতার বাড়িতে গিয়ে প্রতীকগুলি ফেরত দিতে বলা হয়। গভীর রাতের দৃশ্যে লালু প্রসাদ যাদবের বাড়ির বাইরে বিশাল জমায়েত করেন দলীয় কর্মীরা। দলীয় নেতারা বলছেন যে, নেতৃত্ব কেন তাদের প্রতীকগুলি ফেরত দিতে বলেছে তা তাদের স্পষ্টভাবে বলা হয়নি। আশরাফ ফাতমির মতো, কয়েকজন নেতা জোর দিয়ে বলেছেন যে, কাউকে প্রতীকটি দেওয়া হয়নি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকা ছবিগুলি “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা তৈরি”।

সন্ধ্যায় যারা প্রতীক পেয়েছিলেন এবং রাতেই তা ফেরত দিতে হয়েছিল তাদের মধ্যে রয়েছেন সুনীল সিং। যিনি গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের দল জেডিইউ ছেড়েছেন। তিনি হলেন নরেন্দ্র কুমার সিং ওরফে বোগো, বিহারের একজন প্রাক্তন বিধায়ক।

নাটকীয় ঘটনাবলী এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন মহাজোটের দলগুলি তাদের আসন ভাগাভাগির পরিকল্পনা করছে। তারা কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তাও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। আরজেডির শরিক দলগুলির মধ্যে রয়েছে কংগ্রেস, বাম দলগুলি, মুকেশ সাহনির বিকাশশীল ইনসান পার্টি, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পশুপতি কুমার পরশের নেতৃত্বাধীন আরএলজেপি। সমস্ত শরিক দলগুলি বর্তমানে একটি ভালো আসন চুক্তির জন্য জোর দর কষাকষি করছে বলে জানা যাচ্ছে।

বিহারে ভোটগ্রহণ ৬ নভেম্বর এবং ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ অক্টোবর প্রথম পর্বের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। দ্বিতীয় পর্বের জন্য, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ২০ অক্টোবর। ভোটের ফলাফল ১৪ নভেম্বর।