বহরমপুরে প্রার্থী অধীর, কাঁপছে বিরোধী শিবির !

মুর্শিদাবাদ জেলায় যখন তৃণমূল বনাম বিজেপি লড়াই সংগঠিত হচ্ছে আবার তালকাটতে হুমায়ুন কবীর যেখানে অবতীর্ণ সেখানে অধীরই ভরসা হাত শিবিরে।

অনুসূয়া দাস, সাংবাদিক :  হাত শিবিরের আস্থার নাম কি তবে অধীর চৌধুরীই ? তবে কি এবার কংগ্রেস অধীরকে মুখ করেই বিধানসভা ভোট বৈতরণী পার করতে চাইছে ? কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল অধীররঞ্জন চৌধুরী বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হতে পারেন। আর সেই কথায় মিলে গেল অক্ষরে অক্ষরে। বহরমপুর থেকে প্রার্থী হয়েছেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। কংগ্রেসের একলা চলো নীতি কি অধীর ভরসার কারণেই। একসময় কংগ্রেসের গড় বলা হত মুর্শিদাবাদ। কারণ সেই অধীররঞ্জন। সাংসদ পদে হারার পর কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেলেও সংগঠন মজবুত করতে মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন তিনি। মুর্শিদাবাদ জেলায় যখন তৃণমূল বনাম বিজেপি লড়াই সংগঠিত হচ্ছে আবার তালকাটতে হুমায়ুন কবীর যেখানে অবতীর্ণ সেখানে অধীরই ভরসা হাত শিবিরে। কংগ্রেসের রবিনহুডকি পারবেন পুরনো জমি পুরুদ্ধার করতে। কংগ্রেসকে লড়াইয়ে ফেরাতে। শুধু মুর্শিদাবাদ নয় মালদাতেও এবার জমি ফিরে পেতে গনি খান ম্যাজিকে ভরসা রাখছে কংগ্রেস।  ২০১৬ থেকে ২০২১ পর্যন্ত বিধায়ক থাকা বেশ কয়েক জনকে এই নির্বাচনে টিকিট দিয়েছে কংগ্রেস।

কংগ্রেসের প্রথম দফায় প্রকাশিত প্রার্থী তালিকায় বিশেষভাবে নজর কাড়ে যে নাম, তা হল অধীররঞ্জন চৌধুরী। প্রায় ওয়ান ম্যান আর্মি হয়ে একটা সময় লড়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। পরপর পাঁচ বছর একই লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সংসদে গিয়েছেন তিনি। প্রায় ৩০ বছর পর প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী ফের বিধানসভা নির্বাচন ময়দানে শামিল হলেন। ১৯৯৬ সালে নবগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে থেকে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন।  ১৯৯৯ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রে বাম প্রার্থীকে হারিয়ে অধীর ব্যাটিং শুরু করেন  পরপর ৫বারের সাংসদ। একটা সময় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের মুখ ছিলেন তিনি। অনেকের কাছেই তিনি পরিচিত ছিলেন বহরমপুরের রবিনহুড নামে। ১৯৯৯ সালে বহরমপুরে  প্রথম সাংসদ হয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। সেইবার সাংসদ হওয়ার পর ২০০৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সেভাবে চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হয়নি তাঁকে। তবে অধীরকে প্রথম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় ২০১৯ সালে। সেই সময়ে মুর্শিদাবাদের দুর্গ দখল করতে শুভেন্দু অধিকারীকে পাঠান তৃণমূল নেত্রী। একে একে তৃণমূলে যোগ দেওয়া শুরু করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির ঘনিষ্ঠরা। এর ফলে ২০১৯ সালের লোকসভায় নিজের জেলায় দুটি আসন হারান অধীর। তবে তৃণমূলের বিজয়রথ সেবার রুখে দিয়েছিল বহরমপুর।  ২০১৪ বা ২০১৯ সালে চারিদিকে যখন বিজেপির জয়জয়কার চলে তখনও নিজের গড় রক্ষা করেছিলেন অধীর। বহরমপুরের সেই রবিনহুডকে ২০২৪-র লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয় তৃণমূল কংগ্রেসের ভাইজান ইউসুফ পাঠানের কাছে। ২৫ বছর পর পরাজয়ের মুখ দেখেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বহরমপুরে মোট ৫ লক্ষ ২২ হাজার ৯৭৪ ভোট পান ইউসুফ পাঠান। অন্যদিকে ৪,৩৭,৬৪৬ ভোট পেয়ে, ৮৫ হাজার ৩২৮ ভোটে পরাজিত হন অধীর। এই পরাজয়ে অবাক হন অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞই। 

২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকে অধীর চৌধুরীকে সরিয়ে দেয় দিল্লি। বাংলায় কংগ্রেসের নতুন সভাপতি করা হয় শুভঙ্কর সরকারকে। যদিও ২০২৬- নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রকাশিত প্রার্থী তালিকায় প্রথম দফায় নাম নেই শুভঙ্কর সরকারের । মালদহের মালতীপুর কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়ছেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নূর। উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া থেকে ফের প্রার্থী করা হয়েছে আলি ইমরান রামজ় ওরফে ভিক্টরকে। মোট ২৮৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দিল কংগ্রেস।

অন্যান্য প্রার্থীদের পাশাপাশি বহরমপুরে এবারের আস্থা সেই অধীর। কথাতেই আছে, পুরানো চাল ভাতে বাড়ে। সেই প্রবাদ মাথায় রেখে কংগ্রেস শিবির বহরমপুরে ভরসা রেখেছে সেই বহরমপুরের দাদা অধীরের উপর। দীর্ঘ সময় বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র কংগ্রেসের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০২৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রথমবার এই আসনে জয়লাভ করে, যা কংগ্রেসের একচেটিয়া আধিপত্যে ফাটল ধরায় যদিও আগের মতো দাপট নেই, তবুও স্থানীয় স্তরে কংগ্রেসের একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক এখনও বিদ্যমান বহরমপুরে। নিজের চেনা গড়ের পিচে নেমে অধীর কী ফের ছক্কা হাঁকাবেন নাকি শূন্য রানে ফিরে আসতে হবে। তার উত্তর দেবে, ২৬-র ভোটের ফলাফল। সব মিলিয়ে, প্রার্থী তালিকা প্রকাশে দেরি কংগ্রেসের জন্য একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনই এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপও হতে পারে। এখন দেখার, এই সিদ্ধান্ত কতটা ফলপ্রসূ হয় এবং ভোটের ময়দানে কংগ্রেস কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।