অসমে বন্যা নিয়ে সংসদে সরব গৌরব গগৈ, বিশেষ প্যাকেজের দাবি— ত্রাণে নেমেছে বায়ুসেনা, পাশে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনও।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বিধ্বংসী বন্যায় বিপর্যস্ত অসমের জন্য কেন্দ্রের কাছে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের দাবি তুললেন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ। মঙ্গলবার লোকসভায় ‘পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬’ নিয়ে আলোচনার সূচনাতেই তিনি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্কের আগে অসমের বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন।

গগৈ বলেন, ‘‘অসমে বন্যায় ইতিমধ্যেই ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কেন্দ্রের কাছে আবেদন করছি, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে একটি বিশেষ ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করা হোক।’’ তিনি জানান, শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের জন্যও অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় সহায়তা জরুরি।

এ দিকে, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্যক্তিগতভাবে বন্যা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। রাজ্য সরকার ‘যুদ্ধকালীন তৎপরতায়’ উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় সব গ্রামেই প্রশাসন পৌঁছে গিয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া মানুষদের ত্রাণ শিবিরে খাদ্য, চিকিৎসা ও শিশুদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুনর্বাসনের জন্যও একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরির কাজ চলছে।

ভারতীয় বায়ুসেনাও উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। গত ১০ দিনে অসম ও নাগাল্যান্ডের বন্যাকবলিত এলাকাগুলি থেকে ৪৫৮ জন আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি, নয় টনেরও বেশি ত্রাণসামগ্রী দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সেনাবাহিনী ও অসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বায়ুসেনা।
অসম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, এখনও ছয়টি জেলার প্রায় ৪ লক্ষ ৪৫ হাজার মানুষ বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ৬৩১টি গ্রাম জলমগ্ন এবং ১৮৪টি ত্রাণ শিবির ও বিতরণ কেন্দ্রে প্রায় ২৮,৭০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে নেমেছে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনও। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর ও চরাইদেও জেলায় অন্তত ১০ হাজার পরিবারকে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে কমিউনিটি কিচেন চালু, শুকনো খাবার বিতরণ, নিরাপদ পানীয় জল, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন পরিষেবা, জরুরি আশ্রয় সামগ্রী এবং পশুপালকদের সহায়তায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ‘ভান্তারা’-র ৩৯ সদস্যের একটি বিশেষ দল পশুসম্পদের চিকিৎসা ও সুরক্ষার কাজ করছে। প্রায় ৪,০০০ গবাদি পশুর জন্য খাদ্যের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন।

অসমে বন্যা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ত্রাণকাজ জোরকদমে চললেও, জল নামা এবং পুনর্বাসন সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে।