১৬ জুলাই কংগ্রেসের পার্লামেন্টারি স্ট্র্যাটেজি বৈঠক

অধিবেশনে কোন কোন ইস্যুতে কেন্দ্রকে কোণঠাসা করা হবে এবং সংসদে দলের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েই আলোচনা কংগ্রেসের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনকে সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক ও সংসদীয় কৌশল চূড়ান্ত করতে বুধবার, ১৬ জুলাই বৈঠকে বসছে কংগ্রেসের পার্লামেন্টারি স্ট্র্যাটেজি গ্রুপ। কংগ্রেস সংসদীয় দলের (সিপিপি) চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধীর দিল্লির বাসভবনে সকাল ১১টায় এই বৈঠক। অধিবেশনে কোন কোন ইস্যুতে কেন্দ্রকে কোণঠাসা করা হবে এবং সংসদে দলের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হবে বলে কংগ্রেস সূত্রের খবর।

অন্য দিকে, বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর এক দিন আগে, ১৯ জুলাই সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে কেন্দ্র। সংসদের প্রতিটি অধিবেশনের আগে প্রচলিত রীতি মেনেই এই বৈঠকে সরকারের আইন প্রণয়নের কর্মসূচি তুলে ধরা হবে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চাওয়া হবে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকটি সকাল ১১টায় শুরু হবে।

কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু আগেই জানিয়েছেন, এ বছরের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলবে ২০ জুলাই থেকে ১৩ অগস্ট পর্যন্ত। তাঁর বক্তব্য, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে অর্থবহ আলোচনা, বিতর্ক এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই অধিবেশন আহ্বানের অনুমোদন দিয়েছেন।

তবে অধিবেশন যে যথেষ্ট উত্তপ্ত হতে চলেছে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক মহলে একপ্রকার ঐকমত্য রয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত-সহ একাধিক জনস্বার্থের প্রশ্নে বিরোধীরা সরকারকে চাপে ফেলতে চাইবে। পাল্টা, কেন্দ্রও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করে নিজেদের আইন প্রণয়নের কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বিরোধী দলে ভাঙন ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের আবহেও সংসদের অন্দরে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, প্রস্তাবিত ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল খতিয়ে দেখা যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি) ১৭ জুলাই তাদের রিপোর্ট গ্রহণ করতে পারে। পরে সেই রিপোর্ট সংসদে পেশ করা হবে। এই বিলে গুরুতর অপরাধের মামলায় কোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কেন্দ্র ও রাজ্যের মন্ত্রী টানা ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর পদ খারিজ হয়ে যাবে— এমন প্রস্তাব ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।