রদ্রির অদম্য নেতৃত্বে দুর্ভেদ্য স্পেনের রক্ষণ!

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বিশ্বকাপ জয়ের পথে স্পেন শুধু ট্রফিই জেতেনি, গড়েছে নজিরও। পুরো প্রতিযোগিতায় মাত্র একটি গোল হজম করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। সেই গোলটিও এসেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে। বাকি সাত ম্যাচে প্রতিপক্ষের আক্রমণকে কার্যত নিষ্প্রভ করে রেখেছিল স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ।
পরিসংখ্যানই স্পেনের আধিপত্যের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আটটি ম্যাচে তারা করেছে ১৪ গোল, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র একটি। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয়, গোটা টুর্নামেন্টে একটিও ম্যাচ হারেনি স্প্যানিশরা। উরুগুয়ে, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েও রক্ষণে এতটা ধারাবাহিকতা নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।
স্পেনের এই সাফল্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন মাঝমাঠের ভরসা রদ্রি। তাঁর উপস্থিতিতে স্পেনের রক্ষণ এবং মিডফিল্ড ছিল প্রায় অভেদ্য। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া, বলের দখল ধরে রাখা এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ— প্রতিটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। সেই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলারের গোল্ডেন বল উঠেছে রদ্রির হাতেই।

পরিসংখ্যানের নিরিখে রদ্রির গোল বা অ্যাসিস্টের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো নয়। তবে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের ভূমিকায় তাঁর দায়িত্ব ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিখুঁত পাসিং, বল পুনরুদ্ধার এবং রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলে গোটা দলকে এক ছন্দে বেঁধে রেখেছিলেন তিনি। স্পেনের খেলার মূল চালিকাশক্তি ছিলেন রদ্রিই।
অন্যদিকে, লিওনেল মেসিও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ছিলেন উজ্জ্বল। আট গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট করে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তাই অনেকের মতে, গোল্ডেন বলের দাবিদার তিনিও ছিলেন। তবু স্পেনের ঐতিহাসিক সাফল্যে রদ্রির সর্বগ্রাসী প্রভাব এবং দলের ভারসাম্য রক্ষায় তাঁর অসামান্য অবদানের মূল্যায়ন করেই শেষ পর্যন্ত তাঁকেই টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।