বিধায়কের পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

রাস্তা তৈরির প্রকল্পে তিনটি আলাদা অঙ্ক সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এলাকায়। কোনটি প্রকৃত বরাদ্দ ?

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে শুরু হয়েছে দীঘিরোড সংস্কারের কাজ। কিন্তু কাজ শুরুর আগেই অর্থ বরাদ্দের অঙ্ক ঘিরে তৈরি হয়েছে জোর বিতর্ক। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়।

বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে দাবি করেন, দীঘি রোডের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৮ কোটি ১৮ লক্ষ ৬৫ হাজার ৩৮৩ টাকা। তবে সরকারি নথিতে ধরা পড়ছে ভিন্ন ছবি। রাস্তায় লাগানো ফলকে উল্লেখ রয়েছে ৬ কোটি ৪৫ লক্ষ ১১ হাজার ৯৭৬ টাকা। আবার পাশ হওয়া টেন্ডারের কাগজে দেখা যাচ্ছে ৭ কোটি ৩৪ লক্ষ ৯ হাজার ১৬৭ টাকার হিসাব।

একই প্রকল্পে তিনটি আলাদা অঙ্ক সামনে আসায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এলাকায়। কোনটি প্রকৃত বরাদ্দ ? ফলকে এক অঙ্ক, টেন্ডারে আর এক,  আর বিধায়কের পোস্টে অন্য অঙ্ক— এই অসঙ্গতির কারণ কী?

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহু বছর ধরেই বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে দীঘিরোড। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। শুধু দীঘিরোডই নয়, বসিরহাট হাসপাতাল রোডের অবস্থাও নাকি শোচনীয়। বারবার জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হয়েও তেমন ফল মেলেনি বলে দাবি এলাকাবাসীর।

এখন কাজ শুরু হলেও বরাদ্দের অঙ্কে এই গরমিল নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে। বিরোধীদের একাংশের প্রশ্ন, হিসাবের এই পার্থক্যের পিছনে প্রশাসনিক ব্যাখ্যা আছে, নাকি অন্য কোনও কারণ? জনসাধারণের টাকার স্বচ্ছ ব্যবহারের দাবিতেই সরব হচ্ছেন অনেকে।

যদিও এ বিষয়ে বিধায়কের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের ব্যাখ্যার দিকেই তাকিয়ে স্থানীয় মানুষ।