জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক: স্টেজে বিড়ি খাওয়া যাবে না..তাই না। ওকে নো প্রোবলেব। ও আচ্ছা ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। বলছি, সনাতন এসে গেছে.. আর সনাতনি… সনাতন মানে আবার আপনি আবার কারও নাম ভেবে বসবেন না যেন..সনাতন মানে- সনাতন ভারতবর্ষ। বলছেন অনির্বান। তিনি বলছেন সনাতন ভারতে পৌঁছতে হলে আমাদের একটু পিছিয়ে যেতে হবে। কিন্তু ভাই অনির্বান, সনাতন ভারতবর্ষ পেতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে কেন… আমাদের ভারতবর্ষ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মভূমি। তাকে পড়লেই তো বোঝা যায়, সনাতন ভারত অনেক উন্নত। অনেক গর্বের। আর তাছাড়া এগিয়ে যাওয়াই তো জীবের ধর্ম। কিন্তু এগোলেই যদি গুলির ভয় দেখানো হয়..তাহলে আপনি কি করবেন..বাঁচতে হলে মাথার কাজ বন্ধ করে শুধু গলা ছেড়ে চিৎকার করার কথা বলছেন অনির্বানরা।
সিধু-কানহুকে কিন্তু ভুলে যাননি অনির্বানরা। তাই গুলিগানিজমের একটি গানের শুরুতে- জয় সিধু-কানহু বলতে শোনা যাচ্ছে অনির্বানদের। কিন্তু, হঠাৎ করে ভয় পেয়ে কান্নাকাটি করছেন কেন অনির্বানরা। একটু পরে বোঝা গেল বিষয়টি। বাঙালি হেরে যাচ্ছে বলে কান্নাকাটি করছেন অনির্বানরা। একটু আপনি মনে করে দেখুন বাংলায় কথা বলার জন্য ভিনরাজ্যে কিভাবে বাংলার শ্রমিকদের হেনস্থা হতে হয়েছে। শুধু ভিনরাজ্যে কেন আমাদের রাজ্যেও তো বাঙালি হেনস্থার ঘটনা ঘটেছে। তাই ভয় পাচ্ছেন অনির্বানরা। সরনাপন্ন হয়েছেন বিশ্বকবির। দর্শকদেরও মনে করিয়ে দিচ্ছেন তিনি। বলছেন- ভাদ্র মাসে ৩১ অগাস্ট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহতে বসে লিখেছিলেন, ভয়কে আগে জয় করো। পাশ থেকে একজন বলে ওঠেন- থ্যাঙ্ক ইউ রবীন্দ্রনাথ।

বকুল তলায় ভিড় জমিয়ে ভয়কে জয়ের পরে মস্তি করে এবার ঠাকুর-দেবতা নিয়ে পড়েছেন অভিনেতা পরিচালক অনির্বান ভট্টাচার্য। গানের শুরুতে তিনি বলেই দিয়েছেন। দেশের নয় বিদেশের ঠাকুর নিয়ে তিনি গান বেঁধেছেন তাই কোনও অসুবিধা নেই। ঠাকুর-দেবতার মধ্যে স্পেশালিটিও খুঁজে পেয়েছেন তিনি। কী সেই স্পেশালিটি। তিনি বলছেন এই ঠাকুররা অমর নন, তাঁরা মারা যাবেন। কিন্তু তাঁদের মনে রাখবে মানুষ। উদাহরণ দিয়ে অনির্বান বলেছেন, রামকৃষ্ণ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা। খোঁচা দিয়ে আবার নাম টানলেন অনুরাগ ঠাকুর ও শান্তনু ঠাকুরের। আরও একটু খোঁচা দিয়ে অনিবার্ন যোগ করলেন , পশ্চিমবঙ্গ নন-পলিটিক্যাল রাজ্য। তাই এখানে পলিটিক্যাল কথার নো এন্ট্রি। কিন্তু হঠাৎ অনির্বান কেন বললেন বিদেশের ঠাকুর সেফ।
এক্স কার…আরে আপনার প্রাক্তনের কথা বলছি না। ইলন মাস্কের কথা বলছি। অনির্বান বলছেন, ইলন মাস্ক যদি বদমায়েশি করে তাহলে নালিশ করে দেব। কি বদমায়েশি..যদি কাশছি বলে হাচে, তাহলে ইলন মাস্কের কাছে নালিশ করে দেব ইলন মাস্কের নামে। ক্লাসে যে ছেলে বা মেয়েটা সবচেয়ে বেশি বদমায়েশি করত তাকেই স্যার বা ম্যাম দায়িত্ব দিতেন যে বেশি কথা বলছে তার নাম লিখে রাখো। এখানে কেসটা অনেকটা সেই রকম।
বিল গেটসকে বিলুদা সম্বোধন করে অনির্বানরা বলছেন, বিলুদা তুমি খুব বাজে। কেন হঠাৎ বিল গেটস বাজে হতে গেলেন অর্নিবানদের কাছে..শুনুন- জুকের বার্গ শয়তানি করলে তার নামেও নালিশ করবেন অনির্বানরা। কিন্তু কার কাছে তারা নালিশ করবেন জুকের বার্গের নামে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নালিশ করবেন।
দেখুন, হুলিগানিজমের গান আপনার কেমন লাগছে সেটা আপনি জানাবেন। ভালো-খারাপ বিবেচনা করার বিষয়ও সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ভাবে আপনার। আমি শুধু একটা বলতে পারি নীল শার্ট কালো ওয়েস্ট কোর্ট পরা মানুষগুলির দম আছে। হয়তো ঘুরিয়ে কাউকে বার্তা দিলেন অনির্বানরা।