ডায়মন্ড হারবার মডেল নিয়ে ফের প্রশ্ন

২০১৮ সালের হামলা-কাণ্ডে থানায় বিজেপি নেতা, অভিষেককে ঘিরে বিতর্ক

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: ‘শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাতেই হামলা’, ২০১৮ সালের ঘটনার পুনর্তদন্ত চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ অভিজিৎ দাস।
ডায়মন্ড হারবারের রাজনীতিতে ফের চড়ল পারদ। দীর্ঘ আট বছর আগের এক হামলার ঘটনাকে সামনে এনে নতুন করে সরব হলেন বিজেপি নেতা তথা ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের তিনবারের সাংসদ পদপ্রার্থী অভিজিৎ দাস (ববি)। মঙ্গলবার ডায়মন্ড হারবার থানায় গিয়ে ২০১৮ সালের একটি পুরনো ঘটনার পুনরায় তদন্তের আবেদন জানালেন তিনি। অভিযোগের তির সরাসরি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে।
বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের দাবি, ২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর ডায়মন্ড হারবারের কপাট হাট এলাকায় তাঁর উপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছিল। সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডিগ্রি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। আর সেই ঘটনার জেরেই তাঁর উপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
অভিজিৎ দাসের বক্তব্য অনুযায়ী, ডায়মন্ড হারবারের ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের কপাট হাট সংলগ্ন এলাকায় তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন বলেও দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে স্তব্ধ করে দেওয়ারও চেষ্টা হয়েছিল।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তীতে একাধিক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল, কিন্তু কোনও ফল মেলেনি। সেই সময় প্রশাসনের একাংশ শাসকদলের প্রভাবে কাজ করছিল বলেও অভিযোগ তোলেন বিজেপি নেতা।
মঙ্গলবার ডায়মন্ড হারবার থানায় লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ দাস বলেন, “২০১৮ সালে আমি ন্যায়বিচার পাইনি। আমার অভিযোগ শোনা হয়নি। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তাই নতুন করে আবেদন জানালাম। আশা করছি, পুলিশ এবার নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবে।”
শুধু পুরনো হামলার ঘটনা নয়, এদিন ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয় ও সন্ত্রাসের রাজনীতি চালানো হয়েছে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর অত্যাচার, মারধর এবং রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার অভিযোগও তোলেন তিনি।


লোকসভা নির্বাচন নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন অভিজিৎ দাস। তাঁর দাবি, ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে জাল ভোট এবং সন্ত্রাসের আবহে নির্বাচন হয়েছে। কিছু প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার সহযোগিতায় এই পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও তাঁর তোলা এই সমস্ত অভিযোগের পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ পদ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন এবং ইতিমধ্যেই উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই নিয়ে বড় আইনি পদক্ষেপ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
তবে বিজেপি নেতার এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ডায়মন্ড হারবারে শাসক-বিরোধী সংঘাত নতুন নয়। তবে বহু বছর আগের একটি ঘটনাকে সামনে এনে ফের রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হওয়ায় আগামী দিনে এই ইস্যু আরও বড় আকার নিতে পারে।