হাওড়া পুরসভার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, মামলা হাইকোর্টে

আয়-ব্যায়ের হিসেবে গড়মিলের অভিযোগ তুলে হাওড়া পুরসভার বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলার আবেদন। ১৪ নভেম্বর সেই আবেদন গৃহীত হয়। ৬ সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট।  

রণজিৎ রায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : হাওড়া কর্পোরেশনে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে সরগরম। কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হল। মামলায় ৬ সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট তলব করল আদালত।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, শৌচাগার নির্মাণ সহ বিভিন্ন প্রকল্প বাবদ প্রদেয় বিপুল অংশের টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই মর্মে গত ৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জনস্বার্থ মামলার আবেদন জানানো হয় কলকাতা হাইকোর্টে। জনস্বার্থ মামলার আবেদন জানান জনৈক আমন শ্রীবাস্তব। ১৪ নভেম্বর সেই আবেদন গৃহীত হয় আদালতে।

অভিযোগ, হাওড়া কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ২০১৮- ২০১৯ এবং ২০২১-২০২২ সালের পাঠানো আয় এবং ব্যয়ের রিপোর্টে সিএজি সন্তুষ্ট নয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সিএজি, হাওড়া কর্পোরেশন সহ অন্যান্যদের পার্টি করে আমন শ্রীবাস্তব ভার্সেস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া অ্যান্ড আদার্স মামলা রুজু হয়। কেস নম্বর ৪৮১/২৫। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা হয়। মামলা গৃহীত হয় এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও রাজ্য সরকারকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা করার নির্দেশ দেয় আদালত।

মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী রাজীব মাইতি জানান, তিনিও হাওড়া কর্পোরেশন এলাকার বাসিন্দা হিসেবে কর্পরেশনের বিভিন্ন খাতে কর প্রদান করেন। জল, বিল্ডিং সহ একাধিক ক্ষেত্রে কর প্রদান করছেন। তাই প্রদেয় করের টাকার খরচের হিসেব এবং সেই টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা জানার অধিকার আছে তাঁদের। জলমিশন, ১৪০০ শৌচাগারের একটি প্রকল্প ছিল। এখনও পর্যন্ত কোনও শৌচাগার পুরোপুরি তৈরি হয়নি। এদিকে আবাস যোজনার আওতায় বস্তি এলাকাগুলিতেও বাড়ি তৈরিতে দুর্নীতি হয়েছে বলে জানাচ্ছেন আইনজীবী। এমন অনেক স্কুল আছে, যেসব স্কুলকে ৩-৪টে স্কুল দেখিয়ে টাকা তোলা হয়েছে।ফলে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে জানাচ্ছেন তিনি। ৫ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানি। তার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কর্পোরেশনের তরফে রিপোর্ট জমা করতে বলা হয়েছে। তার পাল্টা কিছু বলার থাকলে ৫ জানুয়ারির মধ্যেই রিপোর্ট জমা করতে হবে বলে জানাচ্ছেন আইনজীবী রাজীব মাইতি। হাইকোর্ট যদি মনে করেন দুর্নীতি হয়েছে, তাহলে তা প্রকাশ্যে আসবেই, জানাচ্ছেন তিনি।

সামনেই ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে একাধিক দুর্নীতি হচ্ছে বলে এর আগেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হতে দেখা গিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বকে। সবমিলিয়ে এই মামলার রায়কে অনেকাংশেই ভোটের ময়দানে হাতিয়ার করতে পারে বিজেপি। আর যদি কোনও দোষ প্রমাণ না করা যায়, তাহলে আবারও মিথ্যা অভিযোগ তুলে তৃণমূলকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টার অভিযোগ তুলবে তৃণমূল কংগ্রেস, তা বলাই বাহুল্য।