রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কের শাখায় দুর্নীতি, প্রতিবাদে বিক্ষোভ গ্রাহকদের

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কের শাখায় পরিষেবা দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।

মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা : রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যঙ্কের একটি গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে  প্রতারিত শত শত গ্রাহক।  বাঁকুড়ার জয়পুরে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যঙ্কের শাখায় তুমুল বিক্ষোভ গ্রাহকদের।  গ্রেফতার গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের ৩ প্রতারক। দিন দুঃখী গরীব মানুষ ও মহিলা গ্রুপের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়,  গ্রাহকদের ভুয়ো রশিদ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এলাকায় রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যঙ্ক দূরে। তাই প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে ব্যঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দিতে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যঙ্ক জয়পুর ব্লকের গোপালনগর গ্রামে একটি গ্রাহক সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছিল। সেই কেন্দ্রেই আর্থিক পরিষেবা নিতে গিয়ে এবার কয়েক কোটি টাকার প্রতারণার শিকার হলেন এলাকার কয়েকশো গ্রাহক। ঘটনা বাঁকুড়ার জয়পুর থানার গোপালনগর গ্রাম সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের। প্রতারিতরা রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যঙ্কের ওই নির্দিষ্ট শাখায় বিক্ষোভে ফেটে পড়লে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। এদিকে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওই গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের ৩ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে জয়পুর থানার পুলিশ। তোলা হয়েছে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁকুড়ার জয়পুর ব্লকের গোপালনগর গ্রামে মানুষকে ব্যঙ্কিং পরিষেবা নিতে আগে ছুটতে হত প্রায় ৭ কিমি দূরের জয়পুরে। গ্রামের মানুষদের এই সমস্যা দূর করতে বছর কয়েক আগে গোপালনগরে ওই ব্যাংকের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র চালু করে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্ক। তা চালু হতেই অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে গ্রাহক সেবা কেন্দ্র। ওই গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে এলাকার দিনা আনি দিন খাওয়া মানুষগুলো নিশ্চিন্তে নিজেদের সঞ্চয় আমানত জমা করতে শুরু করলেন। তেমনই আবার বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা তাঁদের ঋণের লক্ষ লক্ষ টাকা ওই কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে ব্যাঙ্কে পরিশোধ করতেন। বিনিময়ে গ্রাহক সেবা কেন্দ্রগুলি থেকে তাঁদের রসিদও দেওয়া হয়। চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎই মহিলা গোষ্ঠীর একটা গ্রুপ জানতে পারেন গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে জমা করা তাদের আমানত জমা পড়েনি ব্যাঙ্কে। তাঁদের যে রসিদ দেওয়া হয়েছে, তাও ভুয়ো। এরপরই একে একে দেখা যায় ওই গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে কমবেশি প্রায় প্রত্যেক গ্রাহক এমনকি স্বনির্ভর দলের পরিশোধ করা টাকাও ভুয়ো রসিদের বিনিময়ে আত্মসাৎ করেছে ওই গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা। এরপর থানার দ্বারস্থ হয়ে গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের ৩ পরিচালকের নামে অভিযোগ দায়ের করলে গতকাল অভিযুক্ত ৩ জনকেই গ্রেফতার করে জয়পুর থানার পুলিশ। আজ ধৃতদের বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। এদিকে প্রতারিত গ্রাহকেরা নিজেদের টাকা ফেরতের দাবিতে বাঁকুড়ার জয়পুরে নির্দিষ্ট ওই রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যঙ্কের শাখায় জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ব্যাঙ্কের ভিতরেও চলে বিক্ষোভ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই ব্যঙ্কে জয়পুর থানার পুলিশ গেলে পুলিশকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান প্রতারিত গ্রাহকেরা। ব্যাঙ্কের ম্যানেজার ছুটিতে রয়েছেন। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে চাইলেন না ডেপুটি ম্যানেজার।