হরিশ্চন্দ্রপুর থানার একাধিক জায়গায় যেমন সাতমুনিয়া, ভেলাবাড়ি, কুশিদা বাংলা বিহার নাকা চেকপয়েন্টের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

বিশ্বজিৎ দেবনাথ, নিজস্ব সংবাদদাতা : এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা বের হতে আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন। তার পরেও অনুপ্রবেশ কাঁটায় সিঁটিয়ে নদিয়া জেলার করিমপুর সীমান্তের মানুষ। রাতের অন্ধকারে পারাপার হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
ধূ ধূ প্রান্তর। দেখলে মনে হবে শস্যশ্যামলা মাঠ। কিন্তু সেই মাঠই যে এক দেশ থেকে আরেক দেশের যাওয়ার রাস্তা। মাঠ পেরোলেই বাংলাদেশ। এই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় থাকা বাসিন্দা রয়েছেন সমস্যায়। কাঁটাতার বিহীন ধূ ধূ প্রান্তরই ভয়ের কারণ। নদিয়ার রানাঘাট থেকে করিমপুর বিভিন্ন জায়গায় সীমান্তে কাটা তার নেই । রাত হলেই অনুপ্রবেশ বেড়ে চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সীমান্ত লাগোয়া বাসিন্দারা দিনের পর দিন অভিযোগ জানিয়ে ক্লান্ত। এই দিকে SIR পর্বে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের বেশ কদিন পরে নির্বাচন কমিশনার খরড়া তালিকা প্রকাশিত হবে। তার আগেই রানাঘাট বরনবেরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে অধীনে যেসব জায়গায় কাঁটাতার নেই সেসব জায়গায় রাত হলেই অনুপ্রবেশ হচ্ছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের। কিছু বলতে গেলেই তাদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। তাই রাত নামলেই গ্রামবাসীরা ঘর থেকে আর বের হন না না। টোটো চালকরা তারাও ঘর থেকে রাত হলে বেরোন না।

এ তো গেল নদিয়া করিমপুর সীমান্তের কথা। এবার আপনাদের ঘুরিয়ে আনি বাংলা-বিহার নাকা চেক পয়েন্টে। সেখানে কি ঘটছে জানেন। বাংলা-বিহার পয়েন্টগুলো নিরাপত্তার দায়িত্বে শুধুমাত্র সিভিক ভলান্টিয়ার। আর রাতের অন্ধকারে কি পাচার হচ্ছে জানেন বেআইনি মদ। বিহার থেকে আসছে ক্রেতারা। আনাগোনা বেড়েছে দুষ্কৃতীদের। এমনকি ছেলেধরা আতঙ্কেও ত্রস্ত নাচাচেক পয়েন্টের পার্শ্ববর্তী মানুষেরা। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার একাধিক জায়গায় যেমন সাতমুনিয়া, ভেলাবাড়ি, কুশিদা বাংলা বিহার নাকা চেকপয়েন্টের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিহারে মদ নিষিদ্ধ হওয়ায় ওই রাজ্য বহু মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। চলছে পাচার কারবারও।
স্থানীয়রা আতঙ্কে সিঁটিয়ে আর রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরা একে অপরের দিকে দোষ দিতে ব্যস্ত। তৃণমূলের দাবি বিহার বিজেপি শাসিত। তাই বিজেপি এ রাজ্যকে অশান্ত করতে চক্রান্ত করছে। অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ পর্যাপ্ত পুলিশ নেই। তাই নজরদারিতে বিঘ্ন ঘটছে।
একদিকে সীমান্ত কাঁটাতার লাগানো নিয়ে কেন্দ্র রাজ্য টানাপোড়েন তো চলছে। তার মাঝেই বাংলায় ভোটের আবহ। ফের ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন ভোটাররা। কিন্তু অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যদি নিরাপত্তায় না সুনিশ্চিত হয় তাহলে কীসের এত ভোটের লড়াই।