মিছিলের মহাশক্তি দেখিয়ে মনোনয়ন জমা দিলেন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আবহেই বৃহস্পতিবার হনুমান জয়ন্তীর পূর্ণ তিথিতে শক্তি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান। দিনটি ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ, আর সেই আবহকেই কাজে লাগিয়ে বিশাল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে নিজের প্রার্থীপদকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরলেন তিনি।
এদিন সকালে ডায়মন্ড হারবার মহকুমার ময়দান থেকে শুরু হয় বিশাল মিছিল। হাতে দলীয় পতাকা, মুখে স্লোগান, আর সঙ্গে ছিল ঢাক-ঢোল, বাদ্যযন্ত্র—সব মিলিয়ে একেবারে উৎসবের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক এই মিছিলে পা মেলান বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। মিছিলটি ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে অগ্রসর হয়ে পৌঁছয় ডায়মন্ড হারবার প্রশাসন ভবনে, যেখানে জাহাঙ্গীর খান আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মিছিল চলাকালীন রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষও এই দৃশ্য উপভোগ করেন। অনেকেই হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রার্থীকে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, এত বড় মিছিল এই এলাকায় খুব কমই দেখা যায়, যা স্পষ্টভাবেই তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনের শক্তিকে তুলে ধরেছে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জাহাঙ্গীর খান আত্মবিশ্বাসী সুরে জানান, “জয়ের ব্যাপারে আমি একশ শতাংশ আশাবাদী। সারা বছর আমরা মানুষের পাশে থেকেছি, মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমরা ভোটের সময় হঠাৎ করে ভোট চাইতে আসি না, বরং সারা বছর মানুষের সঙ্গে থাকি।”

তিনি আরও বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের উন্নয়নমূলক কাজই তাঁর মূল শক্তি। রাস্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প—সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “মানুষ উন্নয়ন দেখেছে, তাই মানুষ আবারও আমাদের ওপর ভরসা রাখবে।”
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে এবার লড়াই যে জমজমাট হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে সিপিএম এবং বিজেপি। ফলে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এই কেন্দ্রে। যদিও বিরোধীদের নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নন তৃণমূল প্রার্থী।
বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “খেলা হলে ভালোভাবেই হোক। আমি ওয়াকওভার জিততে চাই না। মানুষ নিজের ভোট দিয়ে জিতিয়ে দিক, সেটাই চাই।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরাসরি বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এদিনের এই বিশাল মিছিল শুধু মনোনয়ন জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভোটের আগে শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় কৌশল। এর মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে তাদের সংগঠন যথেষ্ট মজবুত এবং তারা লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলিও নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিপিএম এবং বিজেপি উভয়ই এই কেন্দ্রে নিজেদের জমি শক্ত করতে মরিয়া। ফলে আগামী দিনে এই কেন্দ্রে রাজনৈতিক সংঘাত এবং প্রচারের উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মনোনয়নের দিনেই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী লড়াই এক নতুন মাত্রা পেয়ে গেল। জাহাঙ্গীর খানের এই শক্তি প্রদর্শন নিঃসন্দেহে ভোটের আগে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলবে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত মানুষের রায় কোন দিকে যায় এবং কার হাতে ওঠে জয়ের মুকুট।