দ্বিগুণ বাড়ল ক্রুড অয়েলের দাম !

জানুয়ারিতে ভারতের ক্রুড বাস্কেটের দাম যেখানে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৬৩ ডলার ছিল, মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৩ ডলারে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেলেও দেশে জ্বালানির সরবরাহ পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল—মঙ্গলবার এমনটাই জানাল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।

মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানান, জানুয়ারিতে ভারতের ক্রুড বাস্কেটের দাম যেখানে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৬৩ ডলার ছিল, মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৩ ডলারে। এপ্রিল মাসে গড় দাম আরও বেড়ে প্রায় ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, তিন মাসে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে তেলের দাম।

এই মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেও ভারতের জ্বালানির দাম প্রতিবেশী দেশগুলির তুলনায় নিয়ন্ত্রিত রয়েছে বলে দাবি করেন শর্মা। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও দেশে তার সরাসরি প্রভাব কম রাখার চেষ্টা করছে সরকার।

সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করে তিনি জানান, গৃহস্থালির এলপিজি পরিষেবায় কোনও ঘাটতি নেই। বুকিং অনুযায়ী সিলিন্ডার সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং দেশের কোনও ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে ‘ড্রাই-আউট’-এর খবর মেলেনি। বর্তমানে ডেলিভারি দক্ষতা প্রায় ৯৩ শতাংশ।

তবে চাহিদার ক্ষেত্রে কিছুটা ওঠানামা দেখা গিয়েছে। দৈনিক অনলাইন বুকিং কমে ৪৫ থেকে ৪৬ লক্ষে নেমে এসেছে। যদিও বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে। এপ্রিল মাসে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ২৩ হাজার টন বাণিজ্যিক এলপিজি বিক্রি হয়েছে।

প্রবাসী শ্রমিকদের সুবিধার জন্য ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারের ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে সরকার। ৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে ৭ হাজার ৪০০-র বেশি সচেতনতা শিবির আয়োজন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৭ হাজারেরও বেশি ছোট সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক।

প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রেও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ হওয়া পিএনজি এবং পরিবহণে ব্যবহৃত সিএনজি—উভয় ক্ষেত্রেই ১০০ শতাংশ পরিষেবা বজায় রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার নতুন গ্রাহক পিএনজি সংযোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি ৩৯ হাজারের বেশি গ্রাহক এলপিজি ছেড়ে পিএনজি-তে ঝুঁকেছেন।

দেশজুড়ে পেট্রল পাম্পগুলিতেও কোনও জ্বালানির ঘাটতি নেই বলে আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্র। রিফাইনারিগুলি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে এবং পর্যাপ্ত ক্রুড মজুত রয়েছে।

একই সঙ্গে বাজারে অনিয়ম রুখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি একদিনেই ২২০০-র বেশি আকস্মিক পরিদর্শন চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক।

সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেই দাবি কেন্দ্রের।