দুর্নীতি রুখতে সিভিসি-র নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক

রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর ও সংস্থার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশন বা সিভিসি-র নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি, কাটমানি এবং কমিশন নেওয়ার অভিযোগে অতীতে একাধিক বার বিতর্কে জড়িয়েছে রাজ্য প্রশাসন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এ বার সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) -র নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর ও সংস্থার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশন বা সিভিসি-র নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে রাজ্যের অর্থ দফতরের তরফে জারি হওয়া একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে সরকারি পণ্য ক্রয়, পরিষেবা গ্রহণ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে। অর্থাৎ সরকারি টেন্ডার এবং কেনাকাটার পুরো প্রক্রিয়াতেই আরও কড়া নজরদারি চালানো হবে।

এত দিন পর্যন্ত সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে মূলত রাজ্যের নিজস্ব আর্থিক বিধি বা ‘ফিনান্সিয়াল রুলস’ অনুসরণ করা হত। কিন্তু অতীতে সেই প্রক্রিয়া ঘিরে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। নবান্নের একাংশের মতে, আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগই নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।

অর্থসচিব প্রভাত মিশ্রর (Prabhat Mishra) স্বাক্ষর করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিদ্যমান আর্থিক বিধির পাশাপাশি সিভিসি-র সমস্ত নির্দেশিকাও বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে। শুধু তা-ই নয়, সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর করতে সব দফতরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

অর্থ দফতরের এক আধিকারিকের দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই শুরু থেকেই এগোতে চাইছে নতুন সরকার। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই— সরকারি প্রকল্পে কোনও ধরনের দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ করা।”

প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনের নির্দেশিকা কার্যকর হলে সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা অনেকটাই বাড়বে। একই সঙ্গে পক্ষপাতিত্ব, কাটমানি বা কমিশন নেওয়ার অভিযোগও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় মানদণ্ড কার্যকর হওয়ায় ভবিষ্যতে আর্থিক অনিয়ম রুখতে প্রশাসনের পক্ষে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা সহজ হবে।

নতুন এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীদের একাংশের দাবি, অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ থেকেই শিক্ষা নিয়ে সরকারকে বাধ্য হয়ে এই পথে হাঁটতে হয়েছে। যদিও শাসক শিবিরের বক্তব্য, স্বচ্ছ প্রশাসন গড়তেই এই উদ্যোগ।