সাগরে ঘূর্ণিঝড়, ল্যান্ডফলের সময় কত থাকবে হাওয়ার গতি?

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে এবং আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এটি সোমবার সকালে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হতে চলেছে। ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি বাড়িয়ে ‘অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়’ (Severe Cyclonic Storm)-এ পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বজিত নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা

ঘূর্ণিঝড়টির বর্তমান অবস্থা, গতিবেগ ও ল্যান্ডফল সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট নিচে দেওয়া হলো:
​১. বর্তমান অবস্থান ও দূরত্ব পূর্ব-মধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সিস্টেমটি বর্তমানে সুস্পষ্ট নিম্নচাপ/গভীর নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। সাগরদ্বীপ ও উপকূল থেকে দূরত্ব: এটি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে আনুমানিক ৫০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণে/দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। সোমবার ভোরের মধ্যে এটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে উপকূলের কাছাকাছি চলে আসবে।
​

ল্যান্ডফলের সময় ও স্থান

সম্ভাব্য তারিখ ও সময়: আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) নাগাদ উপকূলে আছড়ে পড়তে (Landfall) পারে। ঝড়ের মূল অভিমুখ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল এবং সংলগ্ন অঞ্চল। তবে এর প্রভাবে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলেও দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে। এছারাও ঝড়টির অগ্রগতির সাথে সাথে বাতাসের গতিবেগ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। (Wind Speed Breakdown) বর্তমানে (সমুদ্রে)ঘণ্টা: ৪০ – ৫০ কিমি (দমকা হাওয়ায় ৬০ কিমি) সোমবার (ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার পর)ঘণ্টা: ৭০ – ৮০ কিমি (দমকা হাওয়ায় ৯০ কিমি পর্যন্ত)
মঙ্গলবার (অতি তীব্র রূপ নেওয়ার পর)ঘণ্টা: ৯০ – ১০৫ কিমি (দমকা হাওয়ায় ১২০ কিমি) ল্যান্ডফলের সময় (বুধবার)ঘণ্টায় ১১৫ – ১২৫ কিমি, সর্বোচ্চ ১৪৫ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত।

উপকূলীয় অঞ্চলের সতর্কতা ও সতর্কতা সংকেত:
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ ভারতীয় উপকূলীয় বন্দরে দূরবর্তী সতর্ক সংকেত জারি রাখা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া নৌকা ও ট্রলারসমূহকে অবিলম্বে উপকূলে ফিরে আসার এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস: সমুদ্রের আর্দ্র বাতাসের প্রভাবে সোম ও মঙ্গলবার থেকে উপকূলীয় জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি এবং কিছু জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর থেকে প্রতি ৬ ঘণ্টা অন্তর নতুন বুলেটিন প্রকাশ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন অনুযায়ী ল্যান্ডফলের সূক্ষ্ম স্থান ও সময় সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।