রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভারী বৃষ্টি, কোথাও হালকা বৃষ্টি। বৃষ্টির জেরে মাটিতেই লুটিয়ে পড়ল আমন ধান। মাথায় হাত হাজার হাজার আমন কৃষকের।
মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা: মঙ্গলবার রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে শক্তিশালীঘূর্ণিঝড় মান্থা। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার কাছে মছলিপত্তন ও কলিঙ্গপত্তনমের মধ্যে ল্যান্ডফলের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৩ থেকে ৪ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চলে ঘূর্ণিঝড় মান্থার। ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে। অন্ধ্রপ্রদেশে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বাংলাতেও পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে। বুধবার দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি হবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হবে বলে জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর।

ঘূর্ণিঝড় মান্থার প্রভাবে গতকাল বিকেল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে বাঁকুড়া জেলায়। তার সঙ্গে দোসর ঝোড়ো হাওয়া। তার জেরেই হেক্টরের পর হেক্টর জমিতে শুয়ে পড়েছে পাকা ধান গাছ। মাথায় হাত পড়েছে হাজার হাজার আমন ধান চাষিদের।

চলতি বছর সময়ে বর্ষা আসায় এবং বর্ষায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় বাঁকুড়া জেলায় উল্লেখযোগ্যভাবে আমন ধান চাষের জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্ষার পরেও মাঝেমধ্যে নিম্নচাপের বৃষ্টি আমন ধানের ফলনে সহায়ক হয়েছিল। তবে ধান কাটার মরসুম শুরু হওয়ার আগেই ঘূ্ণিঝড় মান্থা পাকা ধানে কার্যত মই দিয়ে গেল। মান্থার প্রভাবে মঙ্গলবার বিকেল থেকে বাঁকুড়া জেলায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে দোসর হয়েছে ঝোড়ো হাওয়া। আর তার ফলেই বাঁকুড়া জেলার অন্যতম ধান উৎপাদক অঞ্চল হিসাবে পরিচিত কোতুলপুর, জয়পুর, বিষ্ণুপুর, সোনামুখী, পাত্রসায়ের, ইন্দাস সহ কমবেশি জেলার সর্বত্রই হেক্টরের পর হেক্টর জমির ধান জমিতেই শুয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমন চাষের ফলনে প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ লোকসান হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। কৃষকদের অনেকেই সমবায় বা মহাজনের কাছে ঋণ নিয়ে আমন ধান চাষ করেছেন। লোকসান হলে সেই ঋণ কীভাবে শোধ করবেন তা ভেবেই এখন রাতের ঘুম উড়েছে কৃষকদের।

কৃষক বিকাশ শ্যাম জানাচ্ছেন, অকাল বৃষ্টির জেরে ব্যাপক ক্ষতি হল। এই ধান তোলা যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। বেশ কিছু ধান পুরোপুরি মাটিতে শুয়ে পড়েছে। তার উপর দিয়ে জল বয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে কী করবো তা এখনও স্পষ্ট নয়। আরও বৃষ্টি হলে আরও ক্ষতি হবে।

কৃষক অসিত কুমার রায় জানাচ্ছেন, এই বৃষ্টির জেরে ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। চাষিরা ধার করে চাষবাস করেছিলেন। কিন্তু এই বৃষ্টির জেরে যেভাবে ধান নষ্ট হল, তাতে অন্তত ৫০টাকা শতাংশ লোকসান হবে।