পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুমিছিল, পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন

সত্যজিৎ চক্রবর্তী, নিজস্ব সংবাদদাতা: জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমলেও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমে বেড়েই চলছে। অথচ, পুলিশ জাতীয় সড়কের বিষয়ে নিজেরাও পদক্ষেপ নেয়নি এমন অভিযোগও উঠেছে। বারাসত পৌরসভার এক জনপ্রতিনিধির চিঠি পেতেই নড়েচড়ে বসল ট্রাফিক ও সড়ক নিরাপত্তা বিভাগ। বারাসত পুলিশ জেলাকে খতিয়ান পাঠিয়ে তাদের গাফিলতি উল্লেখ করে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন তিনি।

পুলিশ সূত্রের খবর, রাজ্যের ট্রাফিক ও সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত ডিজি জ্ঞানবন্ত সিং বারাসত জেলা পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খারিয়াকে ০৪/০৯/২৫ তারিখে পাঠানো চিঠিতে লিখেছেন, ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বারাসত পুলিশ জেলায় মোট সড়ক দুর্ঘটনার মোট সংখ্যা। ২০২২ সালে ৪৯৪ থেকে কমে ২০২৪ সালে ৩৯৬ হলেও একই সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১০১ থেকে বেড়ে ১৫১ হয়েছে। অর্থাৎ দুর্ঘটনার সংখ্যা কম হলেও দুর্ঘটনাগুলো অত্যন্ত মারাত্মক ছিল। মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে ট্রাফিক নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগ, ব্ল্যাকস্পটের ব্যবস্থাপনা তৈরি ও গতি নিয়ন্ত্রণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ জারি করার কথাও বলেছেন তিনি।

ওই খতিয়ানে উল্লেখ করা হয়েছে বারাসত জেলা পুলিশের অধীনস্থ দু’টি জাতীয় সড়কে যে দুর্ঘটনাগুলি ঘটেছে তাতে ২০২২ সালে ১০১ জনের, ২০২৩ সালে ৫৮ জন আর ২০২৪ সালে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫১ জনের। ২০২২ সালে দত্তপুকুর থানা এলাকার জাতীয় সড়কে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে অশোকনগর থানা এলাকার জাতীয় সড়কে। মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে বারাসত থানা এলাকার জাতীয় সড়কে। মোট ২৯ জনের।

দুর্ঘটনাপ্রবণ ও ব্ল্যাকস্পট উল্লেখ করা হয়েছে সেই চিঠিতে। দত্তপুকুর থানার ১১২ নম্বর জাতীয় সড়কের মন্ডলগাথি এলাকায় ১৫ টি দুর্ঘটনায় মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের মাধ্যমগ্রাম চৌমাথায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এই জাতীয় সড়কে দোলতলা, কলোনীমোড় ও নপাড়া কালিবাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর কারণে দুর্ঘটনাপ্রবণ ও ব্লাকস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। সব থেকে বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ ও ব্ল্য়াকস্পট বারাসত থানা এলাকার জাতীয় সড়কের নপাড়া, কাজীপাড়া ও কলোনি মোড়ে। এই তিন এলাকায় ৩৫টি দুর্ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু এবং ২৯ জনের আহতের ঘটনা ঘটেছে।

জাতীয় সড়ক সূত্রের খবর, বারাসতের মৃত্যু নিয়ে বারাসত পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুমিত সাহা বেশ কয়েক মাস আগে চিঠি দেন জাতীয় সড়ককে। তখন তারা জানায়, দশ বছরে এক জনের মৃত্যু হলে জায়গাটি ব্লাকস্পট ঘোষণা করতে হয় পুলিশকে। জাতীয় সড়ক তখন গতি রোধের পদক্ষেপ করতে পারবে। সুমিত সাহা বলেন,” আমি জাতীয় সড়কের উত্তর পেয়ে ট্রাফিক ও জেলা শাসককে চিঠি দিয়ে পদক্ষেপ করতে বলি। জাতীয় সড়ক আমাকে জানিয়েছে, এবার তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বারাসত পুলিশ জেলার এসডিপিও বিদ্যাঘর অজিঙ্ক অনন্ত বলেন, ” আমাদের কাছে চিঠি এসেছে। পুজো শেষ হতেই পদক্ষেপ করা হবে। জাতীয় সড়কের সাথে সম্পূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হবে। “