বৈষ্ণোদেবীতে ভয়াবহ ধসে মৃত বেড়ে ৩০, বৃষ্টিতেই চলছে উদ্ধারকাজ

ভয়াবহ ধস বৈষ্ণোদেবীর মন্দিরে যার জেরে এক লহমায় চলে গেল ৩০টি প্রাণ। এখনও চলছে উদ্ধারকাজ।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- জম্মুতে প্রবল বৃষ্টিপাতের মধ্যে মঙ্গলবার বৈষ্ণোদেবীর যাত্রা পথে হঠাৎ নেমে আসে প্রবল ভূমিধস। এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে অর্ধকুওয়ারির কাছে, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত বৈষ্ণোদেবীর মন্দিরে যান। প্রচণ্ড বিস্ফোরণের সঙ্গে পাহাড় থেকে ধ্বংসাবশেষ এবং বড় পাথর রাস্তার উপর এসে পড়ে। এই ঘটনার পর ধ্বংসাবশেষের নীচে অনেক মানুষের চাপা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে কমপক্ষে ৩০ জনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরেই জম্মু কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই ধসের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আহত ২৩। তবে এখনও অনেক মানুষের ধসের কবলে আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু বৈষ্ণোদেবীর যাত্রাপথ নয়, ভারী বৃষ্টির জেরে জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায় ধস নেমেছে। রাস্তাঘাট বন্ধ। বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বুধবারও বিভিন্ন জায়গায় ভারী বৃষ্টি হবে। পাহাড় ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে বেরতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভূমিধসের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় উদ্ধারকারী দল। এই মুহূর্তে বৃষ্টির মধ্যেই চলছে উদ্ধার কাজ। সম্পূর্ণ বন্ধ কাটরা হাইওয়ে।

মঙ্গলবার দুপুর অর্ধকুয়ারিতে ইন্দ্রপ্রস্থ ভোজনালয়ের কাছে বড়সড় ধস নামে। আচমকা পাহাড়ের ঢাল বেয়ে পাথর, বোল্ডার নেমে আসায় পুণ্যার্থীদের হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ধসের নিচে চাপা পড়ে যান অসংখ্য পুণ্যার্থী। এর জেরে গতকালই জানা গিয়েছিল ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৪ জন। সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩, বুধবার সকালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩০। এখনও ধসের নিচে বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক্স হ্যান্ডেলে ধসের বিষয়ে জানিয়েছে বৈষ্ণোদেবী তীর্থ কর্তৃপক্ষও। এই ঘটনার জেরে বৈষ্ণোদেবী যাত্রা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অস্থায়ী ত্রাণশিবিরে তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করা হচ্ছে ক্যাম্পে। তবে যাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাঁদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজও চলছে।