মৃত্যুফাঁদ গোসাবা খেয়াঘাট!

পুলিশের নাকের ডগায় ‘মাস কিলিং’-এর ঝুঁকি, নীরব জনপ্রতিনিধিরা

বিশ্বজিৎ নস্কর, সাংবাদিক:  নদী পেরোনো মানেই এখন এক অনিশ্চিত জীবনযাত্রা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্যতম ব্যস্ত গোসাবা খেয়াঘাট এখন রীতিমতো ‘মৃত্যুফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, যেখানে দু’টি নৌকা চলার কথা, তার বদলে চলছে মাত্র একটি নৌকা। আর এই একটি নৌকাতেই ঠাসাঠাসি করে, ন্যূনতম সুরক্ষার তোয়াক্কা না করে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন হাজার হাজার যাত্রী।

​গোসাব বিরাজ নগর থেকে গোসাবা বাজারে যাতায়াতের জন্য এই খেয়াঘাটটিই একমাত্র ভরসা। বাজার বার এবং সপ্তাহের অন্যান্য দিনে বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজের তাগিদে এখানে ভিড় করেন। অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে দু’টি নৌকার প্রয়োজন হলেও একটি নৌকা চালানো হয়, বাজারবার হলে দুটি নৌকা পরিষেবা দেয়া হয় সেখানে শনিবার দেখা গেল কর্তৃপক্ষ কার্যত নীরব।

​স্থানীয়দের দাবি, একটিমাত্র নৌকা যখন ধারণ ক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি যাত্রী নিয়ে পারাপার করছে, তখন এর তলদেশে সামান্য জল ঢুকলেও মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অথচ, এই চরম বেআইনি ও বিপজ্জনক দৃশ্যটির মাত্র ঢিল ছোড়া দূরত্বেই রয়েছে গোসাবা থানা। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন বেপরোয়া যাতায়াত চললেও, পুলিশ বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, পুলিশ কি বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষায় রয়েছে?

​রুটিরুজির তাগিদে ঝুঁকি নেওয়া মানুষজন ক্ষোভের সঙ্গে জানাচ্ছেন, “প্রতিদিন এই পারাপার আমাদের জন্য এক বিভীষিকা। জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু এমন মারাত্মক সমস্যা নিয়ে তাঁদের কোনও মাথাব্যথা নেই। আমরা কি তবে ডুবে মরার অপেক্ষায় থাকব?” তাঁরা সরাসরি জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছেন ​স্থানীয় মানুষ এবং যাত্রীরা অবিলম্বে এই খেয়াঘাটে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আর্জি, দ্রুত দ্বিতীয় নৌকাটি চালু করা হোক এবং ওভারলোডিং বা অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই বন্ধ করতে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক। অন্যথায়, গোসাবা খেয়াঘাট যে কোনো মুহূর্তে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির জন্ম দিতে পারে।