উদ্ধার ১২, ধ্বংসস্তূপে আরও এক জনের খোঁজ মিলল।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : দিল্লির সত্য নিকেতনে বহুতল বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাত। এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও এক জন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে মোট ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। উদ্ধারকাজে নেমেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং দমকল।
এনডিআরএফের ইনস্পেক্টর জেনারেল নরেন্দ্র সিং বুন্দেলা জানান, ধ্বংসস্তূপ থেকে এক জনকে এখনও বার করা সম্ভব হয়নি। তাঁর অনুমান, ওই ব্যক্তি সম্ভবত অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। তাঁকে উদ্ধারের জন্য এনডিআরএফ এবং দমকলের দল যৌথ ভাবে কাজ করছে।
বুন্দেলার কথায়, ‘‘এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছ’জনকে পরে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে এবং পাঁচ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। আরও এক জনের দেহ এখনও বার করা যায়নি।’’ পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা সাত।
ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করার কথা জানিয়ে এনডিআরএফের আইজি বলেন, রাজ্য প্রশাসন পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রবিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। মাটিতে এখন এনডিআরএফের দু’টি বিশেষ উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।
উদ্ধারকাজ কতক্ষণ চলবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না আধিকারিকেরা। ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ এখনও যথেষ্ট থাকায় সতর্ক হয়ে এগোতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের। বুন্দেলা জানান, ‘‘আজ সারা দিন উদ্ধারকাজ চলতে পারে।’’ ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজতে প্রশিক্ষিত কুকুরও ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে এখনও কত জন ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকতে পারেন, তার কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেনি এনডিআরএফ। বুন্দেলার বক্তব্য, ‘‘এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু আর কত জন আটকে রয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই।’’
উদ্ধারকারী বাহিনীর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর প্রোটোকল নিয়েও জানান এনডিআরএফের আইজি। তাঁর কথায়, ফোন পাওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে ঘাঁটি থেকে বাহিনী রওনা করার নিয়ম রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রাখা হয় এনডিআরএফের দল। সেই ব্যবস্থার মাধ্যমেই দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়।
এ দিকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শেষ পর্যন্ত আর কেউ জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হন কি না, এখন সেই আশাতেই নজর দিল্লিবাসীর।