কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছে, এই আবহেই এসআইআর (SIR) এবং ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে শুক্রবার অর্থাৎ ২ অক্টোবর, একাধিক রাজনৈতিক ও সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এছারাও ‘সিজেপি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) মুম্বইয়ে একটি আলাদা প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।

আর প্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্কঃ
বিক্ষোভের কথা মাথায় রেখে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায়। দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নিউ দিল্লি এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট এলাকায় কোনও ধরনের বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে না, এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যন্তর মন্তরে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
শুধু রাস্তাতেই নয় দিল্লি মেট্রো পরিষেবাতেও কিন্তু এর প্রভাব পড়েছে। দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC)- এই বিষয় আগে থেকেই সতর্ক, DMRC- এর তরফে জানানো হয়েছে, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, সেবা তীর্থ, মান্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাওরি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ এবং নিউ দিল্লি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হবে। তবে রাজীব চক, মান্ডি হাউস, নিউ দিল্লি এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জের সুবিধা চালু থাকবে জানানো হয়েছে।
শুধু দিল্লি নয় , মুম্বইয়ের শিবাজি পার্ক এলাকাতেও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা প্রচুর বাড়ানো হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে CJP-র কর্মসূচির কথা মাথায় রেখে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। পুলিশের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। চলছে পুলিশ টহলদারি।
এদিকে CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, তাঁদের সংগঠন মুম্বই থেকে আন্দোলন শুরু করবে এবং পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি চালাবে তাঁরা। তাঁর দাবি, “জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।” এছারাও SIR-এর আওতায় ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এবং নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছেন অভিজিৎ।
বিরোধী দলগুলি ছারাও CJP-র আলাদা কর্মসূচির জন্য শুক্রবার দিল্লি ও মুম্বই দুই শহরেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।আরেক বিরোধী দল নেতা রাহুল গান্ধীও নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই আক্রমনাত্মক থেকেছেন।