সুপ্রিম কোর্টকে বুড়ো আঙুল দেখাল দিল্লি!

দূষণ নিয়ন্ত্রণ কি সম্ভব নয়? ২০২৫-এর দীপাবলির পর আবারও প্রশ্ন তুলে দিল রাজধানী দিল্লি

ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: ২০২৩ সালের জি- ২০ শীর্ষ সম্মেলনের ভারতের শেরপা এবং নীতি আয়োগের প্রাক্তন সিইও অমিতাভ কান্ত বলেছেন যে দিল্লির বায়ুর মান “বিপর্যস্ত” এবং সতর্ক করে দিয়েছেন যে দূষণ যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ না করা হয় তবে শহরকে বাঁচানো যাবে না।

নীতি আয়োগের প্রাক্তন সিইও অমিতাভ কান্ত তাঁর সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে জানিয়েছেন, “দিল্লির বায়ুর মান চরমভাবে বিপর্যস্ত। প্রায় ৩৬ থেকে ৩৮টি জায়গা ‘রেড জোনে’ পরিণত হয়েছে।  কিছু কিছু এলাকায় দূষণের পরিমাণ AQI-৪০০-র উপরে চলে গিয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বাজি পোড়ানোর অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।” দিল্লি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানীগুলির মধ্যে একটি। যদি লস অ্যাঞ্জেলস, বেইজিং এবং লন্ডন নিজেদের দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে দিল্লি কেন পারবে না? কেবল স্থায়ী কোন সিদ্ধান্তই দিল্লিকে এই স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

“এই সময় একত্রিত হয়ে কাজ করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- ফসল এবং জৈববস্তু পোড়ানো বন্ধ করা দরকার, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ইটভাটাগুলিকে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিকীকরণ করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে সমস্ত পরিবহণকে বৈদ্যুতিকে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। বিভিন্ন বিল্ডিং নির্মাণের সময় সেখানকার ধুলোবালি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। গাড়ির ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করে দিল্লিতে পুণরায় নির্মাণ করতে হবে। কেবলমাত্র এই ধরণের সিদ্ধান্তমূলক এবং নিরলস বাস্তবায়নই শহরের নীল আকাশ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসযোগ্য বাতাস পুণরুদ্ধার করতে পারে বলে মনে করেন অমিতাভ কান্ত।

তবে কেন তিনি এই মন্তব্য করেছেন?  দিল্লি বিভিন্ন অঞ্চল ঘন ধোঁয়ার আস্তরণে ঢেকে যাওয়ার পর অনেকের জন্য শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। অবিরাম আতশবাজি ফাটানোর কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের মতে, দিল্লিতে বায়ুর মানের সূচক AQI- ৩৫৭ ছিল। যা ‘খুব খারাপ’ পর্যায়ে রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট দীপাবলি উদযাপনের জন্য বাজি ফাটানোর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় এবং সবুজ বাজির ব্যবহারের অনুমতি দেয়। তারপর এই বায়ু দূষণের সূচক পরিমাপ করা হয়েছে। আদালত বলেছে যে, তারা একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি গ্রহণ করছে। পরিবেশগত উদ্বেগের সাথে আপস না করে উৎসব উদযাপন করার অনুমতি দিয়েছে। আদালত দুই দিনে সকাল ৬টা থেকে ৭টা এবং রাত ৮টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে সময়সীমা বেঁধে দিলেও,  দিল্লি-এনসিআরের বেশ কয়েকটি এলাকায় মধ্যরাতের পরেও বাজি ফাটানো হয়েছে। যা কার্যত প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে দিল্লির প্রশাসনকে।