উমর এবং হ্যান্ডলারের ফোনে কথা হচ্ছিল। সেই কথোপকথনে বিস্ফোরণের জন্য লালকেল্লাকেই বেছে নেওয়া হয়।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণে প্রতিনিয়তই কোনও না কোনও তথ্য উঠে আসছে। তদন্ত প্রক্রিয়া যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক ধোঁয়াশা স্পষ্ট হচ্ছে তদন্তকারীদের কাছে। এবার জানা গেল যে, উমর বিস্ফোরণের আগে হ্যান্ডলারের সঙ্গে কথা বলছিল। দুজনের কথোপকথনের সময় বিস্ফোরণের জন্য লালকেল্লাতেই সিলমোহর দেওয়া হয়।
দিল্লিতে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে সন্ত্রাসবাদী হামলার আগে সন্ত্রাসবাদী উমর মহম্মদ লালকেল্লার পার্কিংয়ে বোমা অ্যাসেম্বল করেছে। নিরাপত্তা এজেন্সির তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে। আরও বলা হচ্ছে, দিল্লিতে ঘুরতে গিয়ে উমর ওই হ্যান্ডলারের সঙ্গে কথা বলছিল। সেখানেই বিস্ফোরণের জায়গা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল দুজনের মধ্যে। দিল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৩জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিরাপত্তা এজেন্সি ফরিদাবাদের আল ফালাহ ইউনিভার্সিটি সহ দেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে। সূত্রের খবর উমর বিস্ফোরণের জন্য একটি জায়গার খোঁজ করছিল। যে জায়গায় কোনও স্মারক রয়েছে, অবস্থানগত দিক থেকে যার গুরুত্ব রয়েছে। এমন কোনও জায়গায় হামলা হলে তা আগামীদিনে সহজেই মানুষের মনে দাগ কাটবে। অবশেষে লালকেল্লার কাছের জায়গাটিকেই বেছে নেওয়া হয়। ঘুরতে গিয়ে হ্যান্ডলারের সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা করে উমর।
প্রথমে লালকেল্লার পার্কিংয়ে বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সোমবার পার্কিংয়ে বেশি ভিড় ছিল না। সূত্রের খবর, উমর লালকেল্লার পার্কিংয়েই বোমাগুলি অ্যাসেম্বল করেছিল উমর। তারপর পার্কিংয়ের বাইরে বেরিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায় সে। লালকেল্লার কার পার্কিংয়ে প্রায় ৩ঘণ্টা দাঁড়িয়েছিল উমর।

আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাভেদ সিদ্দিকিকে আদালতে পেশ করার পর ৩দিন ইডির হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রয়েছে জাভেদ। অন্যদিকে সাহারানপুরের এক মেডিক্যাল ছাত্রকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দিল্লির স্পেশাল সেলের টিম সাহারানপুরের দেওবন্দে তল্লাশি চালিয়েছে। সেখান থেকে একজন এমবিবিএস ছাত্রকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, সন্দেহের বশে স্পেশাল সেলের এই ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। তখনই জানা যায়, ওই ছাত্রের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদী উমরের ফোনে কথা বার্তা হত।
ইতিমধ্যে তদন্তকারীদের হাতে এসেছে একটি ভিডিও। যা দিল্লিতে বিস্ফোরণের আগে করেছিল উমর। দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে মূল চক্রী তথা চিকিৎসক উমর নবি। যেখানে উমর বলেছে, আত্মঘাতী বোমারু নিয়ে সমাজের ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। সাধারণ বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে আত্মঘাতী বোমার কতটা ফারাক। কেন আত্মঘাতী বোমারু বানানো হয়। খুব সংক্ষেপে সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছে দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে আত্মঘাতী বোমারু। উমরকে বলতে শোনা যায় যাদের আত্মঘাতী বোমারু বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তারা আসলে আত্মঘাতী বোমারু নন। তাঁরা আসলে ইসলামের এক একজন শহিদ। আত্মঘাতী বোমারুদের শহিদ বলে ব্যাখ্যা দেয় উমর নবি।