২ বছর ধরে দিল্লিতে হামলার চক্রান্ত চলছিল!

২৬০০ কেজি বারুদ জমা করা হয়েছিল। হামলার কথা স্বীকার করে নিল সন্ত্রাসবাদী চিকিৎসক

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : দিল্লির লালকেল্লায় বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তে নেমে একের পর এক  তথ্য হাতে পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং ইউরিয়া কেনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ডাক্তার মুজাম্মিলকে। মুজাম্মিল গুরুগ্রাম এবং নুহ থেকে ২৬ কুইন্টাল নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম কম্পোস্ট কিনেছিল। ওই কম্পোস্টকে বিস্ফোরণে পরিণত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ডক্টর উমর মহম্মদের উপর।

বিস্ফোরণের জন্য ২৬ লক্ষ টাকা জোগার করা হয়েছিল

সন্ত্রাসবাদী চিকিৎসক মুজাম্মিল জানিয়েছে বিস্ফোরণের জন্য বোমা বানানোর দায়িত্ব সবাইকে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। সবাই নিজেদের মতো বোমা তৈরির সামগ্রী জোগার করতে থাকে। বিস্ফোরক বানাতে ৩ লক্ষ টাকার নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম কম্পোস্ট কেনা হয়েছিল। বিস্ফোরণের জন্য নিজেরাই অর্থ জোগার করেছিল। ডাক্তার মুজাম্মিল ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিল। আদির আহমেদ রাথার ৮ লক্ষ টাকা,ডাক্তার মুজফ্ফর আহমেদ রাথার ৬ লক্ষ টাকা দিয়েছিল। এছাড়াও উমর ২ লক্ষ টাকা, ডাক্তার শাহিনা শাহিদ ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিল। মোট ২৬ লক্ষ টাকা নগর জমা করে উমরের হাতে দিয়েছিল।

হেফাজতে মাস্টারমাইন্ড মৌলবী

এনআইএ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে ৩জন ডাক্তার এবং একজন মৌলবীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।  ১০ নভেম্বর লালকেল্লার অদূরে হওয়া বিস্ফোরণের ঘটনায় এদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বিস্ফোরণে ১৫জনের মৃত্যু হয়েছিল। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ মুজাম্মিল গনোই, আদিল রাথার, শাহিনা সইদের সঙ্গে মৌলবী ইরফান আহমেদ বাগেকেও গ্রেফতার করেছে। এনআইএ মুখপাত্রের এক বয়ান অনুযায়ী, পাটিয়ালা হাউজ আদালতে পেশ করার পর তাদের হেফাজতে নিয়েছে সন্ত্রাসবাদবিরোধী এজেন্সি।

আলির নামে কেনা হয়েছিল গাড়ি

এনআইএর মুখপাত্র জানিয়েছে, এরা সকলেই সন্ত্রাসবাদী হামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যে বিস্ফোরণে অন্তত ১৫জনের মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন।

১১ নভেম্বর মামলার তদন্তের দায়িত্ব হাতে নিয়েছে এনআইএ। তারা প্রথমেই দুজনকে গ্রেফতার করেছিল। তারা হল আমির রশিদ আলি এবং জসির বিলাল বানী ওরফে দানিশ। ডাক্তার উমর উন নবী বিস্ফোরক ভরা গাড়িটি চালাচ্ছিল এবং সে আলির নামে গাড়িটি কিনেছিল। বানীকে যখন গ্রেফতার করা হল, তখন তদন্তকারীরা জানতে পারেন, উমর তাকে আত্মঘাতী বোমারু হওয়ার জন্য উস্কানি দিচ্ছিল। যদিও তার জন্য প্রস্তুত ছিল না সে। তবে বানীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত আরও কিছুটা এগোতে ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৯০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। ১৮ থেকে ১৯ অক্টোবরের রাতে সেই ঘটনাক্রমের শুরু। তারপর শ্রীনগর শহরের বাইরের এলাকার দেওয়ালে জৈশ-ই-মহম্মদের পোস্টার দেখা দেয়। ওই পোস্টারে কাশ্মীর উপত্যকা, পুলিশ এবং নিরাপত্তাবাহিনীর উপর হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে পোস্টার লাগাতে দেখা গিয়েছিল ৩জনকে। ওই ৩জনই হল আরিফ-নিসার-দার ওরফে সাহিল, ইয়াসির-উল-আসরফ এবং মাকসুদ আহমেদ দার ওরফে শাহিদ। এদেরকে জেরা করেই উঠে আসে মৌলবী ইরফানের নাম। যে তাদের হাতে ওই পোস্টার তুলে দিয়েছিল। তাকেও গ্রেফতার করা হয়। প্রথমে ফরিদাবাদ থেকে গনোইকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর সইদকেও সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর আদিল রাথারকে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর থেকে গ্রেফতার করে এনআইএ।