অবশেষে মুক্তি পেল দিল্লি ক্রাইম সিজন-৩

আগের দুই সিজনের মতো এ বারও শেফালি শাহ নিজগুণে মন কেড়েছেন দর্শকের। তবে এ বারের বিশেষ আকর্ষণ যে হুমা কুরেশি।

রিয়া হালদার, সাংবাদিক : টানা তিন বছরের অপেক্ষা ২০২২ থেকে ২০২৫। অবশেষে মুক্তি পেয়েছে দিল্লি ক্রাইমের তৃতীয় সিজন। কিছুদিন আগেই তা হয়েছে। মূলত নারী পাচারকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে দিল্লি ক্রাইমের সিজন কাহিনী। পরিচালক তনুজ চোপড়ার দক্ষ পরিচালনা ও শক্তিশালী কাস্টের অভিনয়ে আবারও সমাজের অন্ধকার দিক উন্মোচিত। আরও একবার সংক্ষেপে আপনাদের মনে করে দিই সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা। সালটা ছিল ২০১২। প্রায় দেড় দশক আগে দিল্লির এইমস হাসপাতালে হাজির হয় কিশোরী কন্যে। কোলে বছর দুইয়ের এক শিশুকন্যা। মাথার খুলি ফাটা। হাত-পা ভাঙা। গালে, শরীরে আঁচড়-কামড়, পোড়ার ক্ষতচিহ্নে ভরা। ওইটুকু মেয়ের অবস্থা দেখে শিউরে উঠেছিলেন অভিজ্ঞ চিকিৎসক থেকে দুঁদে পুলিশকর্তা প্রত্যেকেই। কিশোরী মেয়েটি প্রথমে নিজেকে শিশুটির মা বলে পরিচয় দিলেও তদন্তে ক্রমেই বেরিয়ে আসতে থাকে আরও ভয়ঙ্কর সব তথ্য। জানা গিয়েছিল শিশুটির জন্মদাত্রী মা নারীপাচারের শিকার। নানা জায়গায় হাতবদল হয়ে সে বিক্রি হয়ে গিয়েছে। একরত্তি ফলকও এহাত-ওহাত ঘুরতে ঘুরতে অত্যাচারের শিকার। লাগাতার তদন্ত, অভিযানে ধরাও পড়েছিল পাচারচক্রের বেশ কয়েকজন। আর সে সময় একরত্তি মেয়ের সুস্থতা কামনায় একজোটে প্রার্থনা করেছিল গোটা দেশ। তবে আশাপূরণ অবশ্য হয়নি। প্রায় দু’মাস যমে-মানুষে টানাটানির পরে লড়াই শেষ হয়ে যায় একরত্তি মেয়ের। সেই হাড়হিম করা ঘটনাই এবার নেটফ্লিক্সের পর্দায়। জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘দিল্লি ক্রাইম’-এর তৃতীয় সিজনের কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে এই সিরিজকে কেন্দ্র করে দর্শক ও সমালোচক মহলে উঠে আসছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এই সিরিজে রয়েছে একাধিক নারী চরিত্র। প্রতিটি চরিত্রই খুব শক্তিশালী বলে মনে করছেন দর্শকমহল। আগের দুই সিজনের মতো এ বারও শেফালি শাহ নিজগুণে মন কেড়েছেন দর্শকের। তবে এ বারের বিশেষ আকর্ষণ যে হুমা কুরেশি, তা বলাই যায়। এদিকে সিরিজ নিয়ে আলোচনার মাঝে প্রকাশ্যে এল এই সিরিজে শেফালি শাহ থেকে হুমা কুরেশি ছাড়া বাকি আর কে, কত পারিশ্রমিক পেলেন? আজ সে বিষয়েই আলোচনা করবো আপনাদের সঙ্গে।

আপানারা নিশ্চই দেখেছেন দিল্লি ক্রাইম সিরিজে শেফালিকে দেখা যায় ডিসিপি বর্তিকা চতুর্বেদীর চরিত্রে। এক দিকে বলিষ্ঠ পুলিশ আধিকারিক সে। অন্যদিকে, তার মধ্য়ে রয়েছে, আবেগপ্রবণ একটি মানুষ, যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে সে। ভয়ঙ্কর খলচরিত্রে দেখা গিয়েছে হুমা কুরেশিকে। তাঁর চরিত্রের নাম ‘বড়ি দিদি’। তাঁর অভিনয় ভয় ধরিয়েছে দর্শককে। আবার বাইরে থেকে শান্ত ও নম্র। কিন্তু অপরাধী ছাড় পায় না পুলিশ আধিকারিক নীতি সিংহের কাছে। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন রসিকা দুগ্গল। তাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়েছে দর্শক। এই বারের সিজনে দেখা গিয়েছে বাঙালি অভিনেত্রী সায়নী গুপ্তকে। এর আগের দু’টি সিজনে যদিও তিনি ছিলেন না। দিল্লি পুলিশের আধিকারিক ভূপেন্দ্র সিংহের চরিত্রে দেখা গিয়েছে রাজেশ তৈলাংকে। সবমিলিয়ে নতুন সিজনে মোট সাতটি পর্ব রয়েছে। অভিনয়ের জন্য প্রতিটি পর্ব অনুযায়ী লক্ষ লক্ষ টাকা কামিয়েছেন কলাকুশলীরা। খবর পাওয়া গিয়েছে তেমনই। গ্রাফিক্যালি একবার দেখে নিন, কে পেল কত টাকা……..

প্রতিটি পর্বে শেফালির পারিশ্রমিক

১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা

৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক হুমার

৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক রসিকা দুগ্গলের

৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক সায়নী

৪ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক রাজেশ তৈলাং-এর

প্রথম সিজন থেকেই বাস্তবতায়, তুখোড় অভিনয়ে, গল্পের ঠাসবুনোটে চমক দিয়েছিল ‘দিল্লি ক্রাইম’। তৃতীয় সিজনে এসে বর্তিকা, নীতি ও তাদের দলবলের অভিনয় যেন আরও শানিত, আরও বাস্তব থেকে উঠে আসা। এই সিরিজে কর্মসূত্রে লড়াইয়ের পাশাপাশি বর্তিকা কিংবা নীতির ব্যক্তিগত জীবনেও ঝড় ওঠে সমানতালে। দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, একরোখা, কর্মনিষ্ঠ বর্তিকার চরিত্রে শেফালি এই সিজনে আরও গভীর, আরও পোক্ত। কখনও নাছোড় জেদ, কখনও ক্ষোভ, হতাশা, কখনও অপরাধবোধের গ্লানি, কখনও বা ক্লান্তি পেরিয়ে জয়ের হাতছানি—সবটাই উঠে আসে তাঁর চোখে। রসিকাও নীতির ভূমিকায় ক্ষুরধার বুদ্ধিমত্তা আর আবেগে ভীষণ রকম জীবন্ত। রাজেশ, জয়া, অনুরাগরাও কর্তব্যপরায়ণতা, টিম স্পিরিট আর ঠান্ডা মাথায় ততটাই নজরকাড়া। সবমিলিয়ে বাকি ২ সিজনের মতো দর্শকদের মন কেড়েছে দিল্লি ক্রাইম থ্রি।