দিল্লির বিস্ফোরণে জইশ যোগ ?

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা! এই প্রতিশোধ নিতেই বিস্ফোরণের ছক ছিল জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গিদের ?

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, জৈশ-ই-মহম্মদের সন্ত্রাসবাদী মডিউল ৬ ডিসেম্বর রাজধানী দিল্লির ৬টি জায়গায় হামলার ছক কষেছিল। এই তারিখটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ১৯৯২ সালে এইদিনেই অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল। দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার সন্দেহভাজন সন্ত্রাসবাদী জেরায় জানিয়েছে, ওই ৬ ডিসেম্বর তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছে। কারণ, তারা বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বদলা নিতে চেয়েছিল। ওই জৈশ মডিউল দিল্লিতে ধারবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানোর ছক কষেছিল। জেরায় জৈশ চিকিৎসক মডিউলের সদস্য ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের উদ্দেশ্যের কথা স্বীকার করে নিয়েছে বলে জানাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তাদের পরিকল্পনা ছিল জৈশ আনসার সন্ত্রাসবাদী মডিউল তৈরি করা।

ইম্প্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস অর্থাৎ আই-ই-ডি এবং গোলাবারুদ তৈরির জন্য হরিয়ানার নুহ এবং গুরুগ্রাম থেকে কাঁচামাল কেনার পরিকল্পনা ছিল এদের।

ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণকারী রাসায়নিক আইইডির নির্মাণ এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট না হয়ে তা দিয়ে হামলার ছক ছিল তাদের।

যথাযথ বিবেচনা করে মডিউলের সদস্যদের হাতে সেই বোমা বিতরণ করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল।

ডিসেম্বরে দিল্লির ৬ থেকে ৭টি জায়গায় বোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল এই সন্ত্রাসবাদীদের।

তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, প্রথমে মূলত ২০২৫-এর আগাস্টে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু  হামলা অভিযানের পরিকল্পনায় দেরি হওয়ার কারণে তারিখ পিছিয়ে তা ৬ ডিসেম্বর করা হয়। ৬ ডিসেম্বর, যেদিন বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল। অর্থাৎ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকীর দিনকেই বিস্ফোরণের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, জৈশ-ই মহম্মদ বহু বছর ধরে অযোধ্যার বিষয়ে হুমকি দিয়ে আসছে। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বদলা নেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে জৈশ। মাসুদ আজহার বছরের পর বছর ধরে অযোধ্যাকে নিশানা করে, ধ্বংস করার পণ নিয়েছে।

সম্প্রতি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একের পর এক পদক্ষেপ করে নিজেদের দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেছে ভারত। লালকেল্লার অদূরে হওয়া বিস্ফোরণে সামিল থাকা জৈশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত মডিউলকে সাফল্যের সঙ্গে ধ্বংস করে, দেশে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের কড়া বার্তা দিয়েছে ভারত সরকার। ইতিমধ্যে দিল্লির বিস্ফোরণ নিয়ে বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে। বিস্ফোরণটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা আখ্যা দিয়ে একটি প্রস্তাব পাশ করানো হয়েছে। এই জঘণ্য সন্ত্রাসবাদী হামলার কড়া নিন্দা করে একে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি চালিত নির্লজ্জ কার্যকলাপ বলে অভিহিত করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের মানসিকতা নেওয়া হয়েছে, তা আরও একবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই বৈঠকে। পাশাপাশি ওই মন্ত্রিসভার বৈঠকে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি শাস্তির আশ্বাসও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।