দিল্লি বিস্ফোরণ ২২ নম্বর বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার ১৮ লক্ষ টাকা। সন্ত্রাসবাদী ডাক্তার শাহিনের আলমারি থেকে কী কী উদ্ধার হল ? এত পরিমাণ টাকা শাহিনের কাছে কী করে এল?

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: দিল্লি বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে নেমে আরও একটি বড় তথ্য উঠে এসেছে। ডাক্তার শাহিনের ঘর থেকে ১৮ লক্ষ নগদ টাকা উদ্ধার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। ২২ নম্বর ঘরের আলমারিতে একটি সাধারণ প্লাস্টিকের ব্যাগে করে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ওই বিপুল পরিমাণ টাকা। এনআইএর তদন্তকারী দল শাহিনের ঘরে গিয়ে তল্লাশি চালাতে গিয়ে ওই টাকা উদ্ধার হয়। এত টাকা শাহিনের কাছে এল কী করে, সেই প্রশ্নই উঠছে।
শাহিন এবং মুজাম্মিলের সম্পর্ক
দিল্লি বিস্ফোরণের পর ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি ডাক্তারদের ছক ভেস্তে দিয়েছেন তদন্তকারীরা। দেশে বড় বিস্ফোরণের নেটওয়ার্ক কীভাবে তৈরি হল, সন্ত্রাসবাদী চিকিৎসকদের উপরে কে রয়েছে, সেই মাস্টারমাইন্ড কে, সেই খোঁজই শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে সামিল ডাক্তার মুজাম্মিল শাকিল স্বীকার করে নিয়েছে যে, হোয়াইট কালার টেরর মডিউলের আড়ালে কী বিষাক্ত কাজ চলছিল। জৈশ-ই-মহম্মদের মহিলা কম্যান্ডারের ডাক্তার শাহিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, সেবিষয়েও স্বীকার করে নিয়েছে মুজাম্মিল।
মুজাম্মিলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ শাহিন
তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সমস্তটা ফাঁস করে দেয় মুজাম্মিল। সে জানিয়েছে, শাহিন এবং তার সাক্ষাৎ হয়েছিল আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই। ও আমার চেয়ে অনেক বড় ছিল। ওর বেতনও আমার চেয়ে বেশি ছিল। শাহিনের প্রেমে পাগল ছিল সে। প্রেমে পাগলামি এতটাই বাড়ে যে দুজন ২০২৩ সালে বিয়ে করে নেয়। ডাক্তার শাহিনের প্রথম স্বামী জাফর হায়াত মুম্বইতে থাকতো। শাহিন ছিল উন্নত চিন্তাভাবনার। সে বুরখা পরতে পছন্দ করত না। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে থাকতে চাইতো। শাহিনের দ্বিতীয় স্বামী গাজিয়াবাদে একটি কাপরের দোকানে কাজ করত। তার সঙ্গেও শাহিনের সম্পর্ক বেশিদিন চলেনি। তারপর আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে মুজাম্মিলের ঘনিষ্ঠ হয় সে।
আল-ফালাহ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে ঘর ভাড়া
ডাক্তার মুজাম্মিল গনোই ১০ নভেম্বর সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে যুক্ত হোয়াইট কালার টেরর মডিউলের মুখ্য অভিযুক্ত। ফরিদাবাদে আরও দুটি থাকার জায়গা নিয়েও তথ্য হাতে এসেছে। ফতেহপুর তাগা এবং ধৌজ গ্রামে ভাড়া নেওয়া দুটি ঘর ছাড়াও মুজাম্মিল খৌরি জামালপুর গ্রামে প্রাক্তন পঞ্চায়েতপ্রধানের থেকেও একটি ঘর নেয়। ঘরের মালিক জু্ম্মা খানের মন্তব্য অনুযায়ী, সেখানে ৩টি বেডরুম রয়েছে। এছাড়া একটি হল একটি রান্নাঘর রয়েছে। ওই ঘরটি আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
মুজাম্মিল এপ্রিল থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ৮ হাজার টাকা করে ভাড়া দিয়েছে। ওই ঘর একটি প্লাস্টিক র মেটেরিয়ালের ফ্যাক্টরির উপর তৈরি হয়েছিল ওই ঘর। জুম্মা খান এনআইএকে জানিয়েছে, মুজাম্মিল নিজেকে একজন কাশ্মীরি ফল ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছে। একবারের জন্যও সন্দের হয়নি যে মুজাম্মিল একজন সন্ত্রাসবাদী হতে পারে। আল ফালাহ হাসপাতালে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়। সেখানে আমার ভাইয়ের ছেলের ক্যানসারের চিকিৎসা হচ্ছে সেখানে। এই মামলার তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন মুজাম্মিল প্রায় ১২দিন ধরে প্রচুর মাত্রায় বিস্ফোরক জড়ো করেছিল। এক কৃষকের জমিতে তৈরি ঘরেও সেই বিস্ফোরক জমা করেছিল সে। পরে ফতেহপুর তাগার গ্রামে মৌলবী ইশ্কিয়াকের ঘরে সেই বিস্ফোরক স্থানান্তরিত করা হয়।
এসবের পর আরও বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া এখনও বাকি। যেমন-
সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্যই এই এইসব ঠিকানা ব্যবহার হল ?
বিস্ফোরক সামগ্রী কোথা থেকে এল ?
কত পরিমাণ বিস্ফোরক ছিল ?
মুজাম্মিলের নেটওয়ার্কে আর কারা সামিল ছিল ?