দিল্লি বিস্ফোরণে ‘টেলিগ্রাম’ যোগ

২০ লক্ষ নগদ টাকা এবং জইশ যোগ। কীভাবে মেসেজিং অ্যাপ থেকে সন্ত্রাসবাদী হামলার ছক তৈরি হল ?

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : দিল্লিতে লালকেল্লা মেট্রো পার্কিংয়ের কাছে বিস্ফোরণকে সন্ত্রাসবাদী হামলা ঘোষণা করেছে সরকার। এর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদীদের নিয়েও একাধিক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তল্লাশি চলাকালীন ধৃত জঙ্গি চিকিৎসকদের ফোন পরীক্ষা করেছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

তল্লাশির সময়ে আধিকারিকরা একাধিক টেলিগ্রাম চ্যাট উদ্ধার করেছেন। যেখানে এই হামলায় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদের যোগ সামনে এসেছে। এছাড়া  বিস্ফোরণের ধরণ দেখার পর আধিকারিকরা মনে করছেন, ফরিদাবাদে সন্ত্রাসবাদী মডিউলের পর্দাফাঁস হওয়ার পর খানিকটা ঘাবড়ে গিয়েই দিল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটায় তারা।

দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে একাধিক তথ্য ?

দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদী হামলার মতো করেই তদন্ত শুরু করা হচ্ছে। ইউএপিএ, সন্ত্রাসবাদ এবং বিস্ফোরক আইনে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কেন্দ্র সরকার বুধবার জানিয়ে দিয়েছে তদন্তকারী এজেন্সি সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবেই এই ঘটনার তদন্ত করছে।  নিরাপত্তা বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়ার পরই একথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  একটি বিবৃতি জারি করে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, “১০ নভেম্বরের সন্ধায় লালকেল্লার কাছে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে জঘন্য সন্ত্রাসবাদী হামলা ঘটিয়েছে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সন্ত্রাসবাদের সমস্ত রূপ এবং অভিব্যক্তির প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সেক্ষেত্রে ভারত সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। “

২০ লক্ষ টাকা দিয়ে বিস্ফোরক কেনার প্রস্তুতি

তদন্তকারী এজেন্সি সূত্র মারফত জানতে পেরেছে, বিস্ফোরণে অভিযুক্ত ডাক্তার মুজাম্মিল, ডাক্তার আদিল, উমর এবং শাহিন হাত মিলিয়ে প্রায় ২০ লক্ষ নগদ টাকা জোগার করেছিল। এই টাকা উমরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এরপর সে গুরুগ্রাম, নুহ এবং আশেপাশের এলাকায় আই-ই-ডি তৈরির জন্য ৩ লক্ষ টাকায় ২০ কুইন্টালের বেশি নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম কিনেছিল। এর সঙ্গে ডাক্তার উমর ও ডাক্তার মুজাম্মিলের মধ্যে টাকার হিসেব নিয়ে বিবাদ শুরু হয়।

পরিকল্পিত বিস্ফোরণ নাকি হঠাৎ বিস্ফোরণ ?

তদন্তকারী আধিকারিকদের আশঙ্কা, ফরিদাবাদে সন্ত্রাসবাদী মডিউলের ছক ফাঁস হওয়ার পরই হতাশায় ডুবে যায় জঙ্গিরা। তার জেরে দিল্লির লালকেল্লার অদূরে বিস্ফোরণ ঘটায় তারা।

তদন্তকারী এজেন্সি এই নিয়ে জানাচ্ছেন, মামলার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টেলিগ্রাম চ্যাটে জৈশ যোগ পাওয়া গিয়েছে। এর আগে খবর মিলেছে, জঙ্গি মডিউলের সদস্য় ডাক্তার শাহিন সইদ মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল।

জৈশ যোগ এবং টেলিগ্রাম চ্যাট নিয়ে কী তথ্য সামনে এল ?

ফরিদাবাদ মডিউল ফাঁস হতেই জম্মু-কাশ্মীর পুলিশও একটি সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক প্রকাশ্যে এনেছে। পুলিশ জানাচ্ছে, তারা খুব সম্ভবত সীমান্ত পার করার নির্দেশ পেয়েছিল। তারা জৈশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলেও মনে করছেন তদন্তকারীরা। ডাক্তার মুজাম্মিলের গ্রেফতারির পর পুলিশ টেলিগ্রামে জৈশ জঙ্গি সংগঠনের প্রভুদের সঙ্গে করা চ্যাট উদ্ধার করেছে।

সন্ত্রাসবাদী ডাক্তার শাহিনের প্রাক্তন স্বামী কী বলছেন ?

গ্রেফতার হওয়া ডাক্তার শাহিন সইদের প্রাক্তন স্বামী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “কখনও ভাবিনি আমার জীবনে এমন বিপত্তি নেমে আসবে।“ কানপুরের কমলা পট মেমোরিয়াল হাসপাতালে চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত ডাক্তার জাফর হায়াত তথা শাহিনের স্বামী জানিয়েছেন, “২০০৩ সালে দুজনের বিয়ে হয়েছিল। দুই সন্তানও রয়েছে। শাহিন প্রায় জেদ করতো এই বলে যে, আমাদের অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপে চলে যাওয়া উচিৎ। কিন্তু আমি বরাবর এখানেই থাকতে চেয়েছি।“