আগামী ৮ই ডিসেম্বর রয়েছে তাঁর ৯০তম জন্মদিন। অভিনেতার পরিবারে এখন তারই তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

রিয়া হালদার, সাংবাদিক: দেওল পরিবারে এখন খুশির হাওয়া। কারণ গত কয়েক দিন ধরে অসুস্থ হয়ে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র দেওল। যার ফলে তাঁর ভুয়ো মৃত্যু নিয়ে নানা ধরনের গুজবও ছড়িয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি আলোচনা হয়েছিল। তবে সত্যিই বিষয়টি গুজব ছিল। আর তাই এসব গুজবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাড়ি ফিরেছেন অভিনেতা। কিন্তু আদতে কেমন রয়েছেন অভিনেতা? অভিনেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মাঝে, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য নিয়ে মুখ খোলেন হেমা মালিনি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন..,
‘যা ঘটছে তা ক্ষমার অযোগ্য!
দায়িত্বশীল চ্যানেলগুলি কীভাবে
এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে মিথ্যা খবর
ছড়াতে পারে!
যিনি চিকৎসায় সাড়া দিচ্ছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাই সঠিক খবর না জেনে, তাঁকে নিয়ে এসব অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। আপনারা সকলেই জানেন, আগামী ৮ই ডিসেম্বর রয়েছে তাঁর ৯০তম জন্মদিন। অভিনেতার পরিবারে এখন তারই তোড়জোড় শুরু হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। কতদূর এগলো প্রস্তুতি? অভিনেতাকে নিয়ে কি বললেন স্ত্রী হেমা মালিনী? জানতে মরিয়া অনুরাগীরা। প্রসঙ্গত, অভিনেতা বাড়ি ফেরার পরেও তাঁর অবস্থা সঙ্কটজনক ছিল। সেই সময় হেমা মালিনী জানান, তাঁর ছেলেমেয়েরা চোখের পাতা এক করতে পারেননি। অসুস্থ বর্ষীয়ান অভিনেতার শরীরে চিকিৎসার জন্য নানা ধরনের যন্ত্র বসানো হয়েছে। হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে খবর তেমনই। সম্প্রতি সেই খবররেই উদ্বেগ বাড়তে থাকে অনুরাগীদের। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে যখন গুঞ্জন শুরু হয়। খানিক বিরক্ত হতেও দেখা গিয়েছিল ছেলে সানি দেওলকে। ইন্ডাস্ট্রির একাধিক তারকা দেওল পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষার আর্জি জানান।

বলিউড অভনেতা সলমন খানকে ছোটবেলা থেকেই নাকি বড্ড স্নেহ করেন ধর্মেন্দ্র। বর্ষীয়ান অভিনেতা নিজেই জানিয়েছিলেন, তাঁর জীবনীচিত্র তৈরি হলে, সলমনই হবেন নায়ক। সলমনের শরীরের গঠন নিয়ে প্রায়ই চর্চা হয়। একটা সময় এশিয়া মহাদেশের অন্যতম সুপুরুষের খেতাব পেয়েছিলেন সলমন খান। অভিনেতা সলমন জানান, তাঁর শরীরচর্চা করার নেপথ্যে অনুপ্রেরণা ছিলেন ধর্মেন্দ্র। বলিউডে ধর্মেন্দ্রই একমাত্র, যাঁকে দেখে শরীরচর্চা করার উৎসাহ পেতেন অভিনেতা। সলমন বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘আমার কাছে ধর্মেন্দ্র, আমার বাবার থেকে কম নন। আমি চাই, উনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।’’অভিনেত্রী হেমা মালিনী জানান, ধর্মেন্দ্র ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন। ৮ ডিসেম্বর ধর্মেন্দ্রর নব্বইতম জন্মদিন। তার আগে ২ ডিসেম্বর মেয়ে ঈশার জন্মদিন। সব মিলিয়ে ডিসেম্বরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে দেওল পরিবার। তিনি বলেন, সবই ভগবানের উপর। ঈশ্বরের ইচ্ছে থাকলে আগামী মাসে দেওল বাড়িতে উদ্যাপন দ্বিগুণ হবে।
তবে অভিনেতার স্বাস্থ্য নিয়ে এই ওঠাপড়ার মাঝেই, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত রেডিটে পুণরায় প্রকাশিত হয়েছে- দুই স্ত্রী প্রকাশ কৌর এবং হেমা মালিনী উভয়ের সঙ্গেই তাঁর একটি বিরল ছবি। প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সঙ্গে বিচ্ছেদ না করেই নাকি তিনি হেমা মালিনীকে বিয়ে করেন। দুই পরিবার মিলিয়ে মোট ছয়টি সন্তান রয়েছে তাঁর। ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে প্রকাশ কৌরের বিয়ে হয় ১৯৫৪ সালে, তাঁদের দুই ছেলে সানি এবং ববি এবং দুই মেয়ে বিজেতা এবং অজিতা। দ্বিতীয় স্ত্রী হেমা মালিনীর সঙ্গে ধর্মেন্দ্রর বিয়ে হয় ১৯৮০ সালে। তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে, যারা হলেন এশা এবং অহনা দেওল। হেমা মালিনিকে বিয়ে করলেও, সেভাবে কোনোদিনই নাকি সংসার করেননি তিনি ও ধর্মেন্দ্র। পাকাপাকিভাবে প্রথম স্ত্রী ও সেই পক্ষের চার সন্তানের সঙ্গেই থাকতেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। এমনকী, দেওলদের কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানেও আমন্ত্রণ থাকত না হেমা বা দুই কন্যা এষা, অহনার। যা নিয়ে নানা সময় বিতর্ক হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে ব্যক্তিগত জীবন যেমনই হোক না কেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতাকে নিয়ে সকলেই আগ্রহী সবসময়।