মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯, উদ্ধার ৮৪ ভারতীয়।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ হিমবাহ ধস (Glacial Collapse) এবং তার থেকে সৃষ্ট হড়পা বানের (Flash Flood) কারণে বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে।
১. হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা
মৃতের সংখ্যা: এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯-এ পৌঁছেছে। নেপালের চিতওয়ান, নূয়াকোট, ধাদিং, গোর্খা, তানাহুন, রসুয়া ও নাওয়ালপরাসী জেলা থেকে অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজ: নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ১,৪৬৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে নেপাল অংশে ৯১০ জন এবং তিব্বত অংশে ৫৫৮ জন নিখোঁজ হিসেবে চিহ্নিত।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ভারতীয়: প্রায় ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক (MEA) স্পষ্ট করেছে যে “যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন” থাকা মানেই তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত বা বিপদে পড়েছেন এমন নয়, টেলিযোগাযোগ পরিকাঠামো ভেঙে পড়ার কারণে অনেকের সন্ধান পেতে সময় লাগছে।
২. উদ্ধারকাজ এবং আটকে পড়া ভারতীয়রা
৮৪ জন ভারতীয় উদ্ধার: উদ্ধারকারী দল এখনও পর্যন্ত ৮৪ জন ভারতীয়কে নিরাপদে উদ্ধার করেছে।
তাঁদের মধ্যে ৬৩ জন ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করা ভারতীয় কর্মী।
তামিলনাড়ু থেকে যাওয়া ২১ জন পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তিব্বত সীমান্তে আটকে পড়া পর্যটক: তিব্বতের দিকে থাকা প্রায় ২০০ জন ভারতীয় (যাঁদের অনেকে কৈলাস মানস সরোবর বা গোসাইকুণ্ড যাত্রা করছিলেন) উদ্ধার সহায়তা চেয়েছেন এবং নেপাল সীমান্তের দিকে আসার চেষ্টা করছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যটক: রসুয়া জেলা থেকে ১১ জন ভারতীয়-সহ মোট ২৭ জন বিদেশি পর্যটককে নেপাল সেনার হেলিকপ্টারে উদ্ধার করে কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

৩. কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়?
হিমবাহ ধস (Glacial Collapse): প্রাথমিক ধারণায় ভূমিকম্পের কথা বলা হলেও, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা (USGS) এবং নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিশ্লেষণে জানা যায় যে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে আইস-রক অ্যাভাল্যাঞ্চ ও হিমবাহ ধসের কারণে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।
নদীর গতিপথ রুদ্ধ ও হড়পা বান: সীমান্ত শহর রসুয়াগড়ি থেকে প্রায় ২০ কিমি উত্তর-পূর্বে লেহেন্দে নদীর ওপর পাহাড় ও বরফের বিশাল স্তর ভেঙে পড়ে। ফলে নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে আটকে যায়। পরবর্তীতে সেই প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ জল, কাদা ও পাথর দ্রুত গতিতে ভোতে কোশি এবং ত্রিশূলী নদীতে এসে পড়ে প্রবল হড়পা বান সৃষ্টি করে।
৪. অবকাঠামোগত ক্ষতি ও বর্তমান সংকট
যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন: প্রলয়ঙ্করী জলে ৩৫টিরও বেশি মোটরেবল ব্রিজ, ৪৫টি ঝুলন্ত সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণ ধসে গিয়েছে বা ধুয়ে মুছে গিয়েছে।
পরিবহন বন্ধ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত আগাম সতর্কতা হিসেবে দিল্লি-কাঠমান্ডু বাস পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
নতুন প্রাকৃতিক রদের আতঙ্ক: বানের পর একাধিক নদী অববাহিকায় কাদা ও ধ্বংসাবশেষ জমে নতুন কিছু অস্থায়ী বিপজ্জনক রদ তৈরি হয়েছে, যা ফেটে গেলে দ্বিতীয় দফায় বান আসার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।