প্রায় ১৫০ বছর আগে সারদাদেবীর মায়ের হাতে পুজোর উদ্বোধন হয়েছিল। বর্তমানে রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্যোগে জয়রামবাটির মাতৃ মন্দিরে এই পুজো হয়।
মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রায় দেড়শো বছরের রীতি মেনে বাঁকুড়ার জয়রামবাটিতে মা সারদার জন্মভিটেতে শুরু হল জগদ্ধাত্রী পুজো। পুজো দেখতে সকাল থেকেই উপচে পড়ল পূণ্যার্থীদের ভিড়। প্রায় দেড়শো বছরের রীতি মেনে বাঁকুড়ার জয়রামবাটিতে মা সারদার পবিত্র জন্মভিটেতে শুরু হল জগজ্জননী মা জগদ্ধাত্রী দেবীর পুজো। সকাল থেকেই মাতৃমন্দিরের উদ্যোগে শুরু হয়েছে পুজো পাঠ। মা সারদার স্মৃতি বিজড়িত এই পুজো দেখতে শুক্রবার সকাল থেকেই জয়রামবাটির মাতৃ মন্দিরে ভিড় জমিয়েছেন দেশ বিদেশের পুণ্যার্থীরা।

বাঁকুড়ার জয়রামবাটিতে মা সারদার জন্মভিটেতে জগদ্ধাত্রী পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। জানা যায় একসময় মা সারদার মা শ্যামাসুন্দরী দেবী কালী পুজোতে নৈবেদ্য দেওয়ার জন্য সারা বছর ধরে একটু একটু করে চাল সঞ্চয় করে রাখতেন বাড়িতে। কালী পুজোর দিন সারা বছরের সঞ্চিত চাল শ্যামাসুন্দরী দেবী নৈবেদ্য হিসাবে পৌঁছে দিতেন গ্রামেরই নব মুখুজ্জের বাড়ির কালী মন্দিরে। কথিত আছে ১৮৭৭ সালে শ্যামাসুন্দরী দেবী নৈবেদ্যর চাল নব মুখুজ্জেদের কালী মন্দিরে দিতে গেলে কোনও কারনে তা নিতে অস্বীকার করেন মুখুজ্জে পরিবারের লোকজন। আর এতে চূড়ান্ত মর্মাহত হন শ্যামাসুন্দরী দেবী।

কালী পুজোর নৈবেদ্য হিসাবে সঞ্চিত চাল দিয়ে কী করবেন তা ভেবে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন শ্যামাসুন্দরী দেবী। জনশ্রুতি সেই রাতেই শ্যামাসুন্দরী দেবী স্বপ্নে দেবী জগদ্ধাত্রীকে দেখতে পান। নৈবেদ্যর জন্য সঞ্চিত চাল দিয়ে জগদ্ধাত্রী তাঁর পুজো দেওয়ার স্বপ্নাদেশ দেন শ্যামাসুন্দরী দেবীকে। সেই স্বপ্নাদেশ মোতাবেক শ্যামাসুন্দরী দেবী ১৮৭৭ সালে নিজের বাড়িতে জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করেন। তারপর থেকে প্রতি বছর জয়রামবাটিতে শ্যামাসুন্দরী দেবী জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করতেন। শ্যামসুন্দরী দেবীর মৃত্যুর পর এই পুজোর আয়োজনের যাবতীয় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন সারদা দেবী। এরপর থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত আমৃত্যু সারদা দেবী নিজে হাতে এই পুজোর আয়োজন করতেন। পরবর্তীতে রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্যোগে মা সারদার জন্মভিটেতে মাতৃ মন্দির স্থাপিত হলে মাতৃ মন্দিরের উদ্যোগেই আয়োজিত হয় এই পুজো।

এখনও তা চলছে সমান তালে। রীতি মেনে আজ নবমীর দিন মাতৃমন্দিরে আয়োজিত হয় সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর পুজো। মা সারদার পবিত্র জন্মভূমিতে তাঁরই স্মৃতি বিজড়িত এই জগদ্ধাত্রী পুজো দেখতে এদিন সকাল থেকে ভিড় জমাতে শুরু করেন দেশ বিদেশের পুণ্যার্থীরা। মা সারদার বাড়িতে মা জগদ্ধাত্রীর পুজো। শান্ত পরিবেশে মা জগদ্ধাত্রীর এমন পুজো দেখে মনটা বেশ ভালো হয়ে গেল, তা এককথায় স্বীকার করে নিলেন পুণ্যার্থীরা।