যান চলাচল স্তব্ধ করে বিজেপির বিক্ষোভ। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে তাঁরা জাতীয় সড়ক অবরোধ।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল ডায়মন্ড হারবার। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী র নির্দেশে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে পথে নামলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। বৃহস্পতিবার ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। এর জেরে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল এবং চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন সাধারণ মানুষ।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আত্মসহায়ক কর্মী খুনের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, ঘটনার পর বহু সময় কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়নি। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে তাঁরা জাতীয় সড়কে বসে পড়েন।
এদিন সকাল থেকেই ডায়মন্ড হারবারের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা মিছিল করে অবরোধস্থলে পৌঁছন। হাতে দলীয় পতাকা ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে তারা স্লোগান দিতে থাকে। “খুনিদের গ্রেফতার করতে হবে”, “প্রশাসনের নির্লজ্জ ভূমিকা চলবে না”—এই ধরনের স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা।
অবরোধের ফলে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের দুই দিকেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বহু অফিসযাত্রী, স্কুল পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ আধিকারিকরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তোলার চেষ্টা করেন। যদিও প্রথমদিকে আন্দোলনকারীরা অনড় থাকেন।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে একের পর এক হিংসার ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা। আত্মসহায়ক কর্মী খুনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানানো হয়।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। যদিও শাসকদলের পক্ষ থেকে বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থে ঘটনাকে ইস্যু করে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বিজেপি।
পরে পুলিশের আশ্বাসের ভিত্তিতে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। তবে দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।