ইকোপার্কে গিয়ে আবারও তৃণমূল কংগ্রেসকে একই মেজাজে কড়া কড়া কথায় বিঁধলেন দিলীপ ঘোষ।

বিশ্বজিৎ পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা: পরনে হাফপ্যান্ট টিশার্ট। পায়ে স্পোর্টস স্যু পরে নিউটাউনে মর্নিং ওয়াক করা এবং সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্বমহিমায় প্রতিক্রিয়া দেওয়াটা যেন ছিল তাঁর রোজকার অভ্যেস। কিন্তু গত ৮ মাস নিজের দলেই ব্রাত্য হয়ে গিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। এইসময়ে দিলীপ ঘোষ হয়তো মর্নিং ওয়াকে গিয়েছেন। কিন্তু সেভাবে সংবাদমাধ্যমে দেখা যায়নি তাঁকে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠকের পর দলের অন্দরে তাঁর কদর বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, অমিত শাহজির সঙ্গে কথা হয়েছে। আবারও ভোটের ময়দানে সক্রিয় হতে চান বলেও জানিয়েছেন অভিমানী দিলীপ। তারপরই হাল ফিরেছে দিলীপের। আবারও আগের মতোই ইকোপার্কে মর্নিং ওয়াকে গিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া কড়া ভাষায় বিঁধলেন দিলীপ ঘোষ।
দিলীপ ঘোষের দায়িত্বলাভের পর তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেছেন “মুখ্যমন্ত্রীর হাতে উদ্বোধন হওয়া দিঘার জগন্নাথ মন্দির দর্শন করেই দিলীপের ভাগ্য ফিরল।“ পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে দিলীপ বলেন, “ উনি প্রবচন দিতেই থাকেন। লোকে মজা পায়। উনি সব ব্যাপারেই মন্তব্য করে থাকেন। ২৬-এর নির্বাচনে জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদেই রাজ্যে পরিবর্তন হবে।“
“ আপনার ভাগ্যে যে জোন পড়বে তার মধ্যে অন্তত ৩৫টি আসন তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ“- এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ বলেন, “ পার্টি যাকে যে দায়িত্ব দেবে সেটা সে করবে। আমার এখনও জোন ভাগ নিয়ে কিছু জানা নেই। আমি ৩ বার ভোটে লড়েছি। ৩ বার সভাপতি বা অন্য দায়িত্ব সামলেছি। নিজের ছাড়াও অন্যের হয়েও প্রচার করেছি। ২১-এর ভোটে আমি প্রার্থী ছিলাম না।“
“ একা শুভেন্দুকে দিয়ে হবে না বুঝেই কি আপনাকে স্বমহিমায় ফেরালো দলের হাই কম্যান্ড?“ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, “পার্টি তো কোনও একক ব্যক্তির ভরসায় চলতে পারে না। কিছু প্রমিনেন্ট মুখ থাকে যাদের অভিজ্ঞতা বেশি। তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও একজন গোটা পশ্চিমবঙ্গ জিতিয়ে দেবে সেটা সম্ভব নয়।“
“ আপনার তো এমন দুর্দিনও গেছে যেখানে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসেছেন আর আপনাকে বিমান ধরে অন্য জায়গায় চলে যেতে হয়েছে।“ উত্তরে দিলীপ বলেন, “ হতে পারে। পার্টি এক্সপেরিমেন্ট করে মাঝে মাঝে। আগে তো ভোটে লড়তে হয়নি। তখন দল ভেবেছিল একেকটা মুখকে একেকবার সামনে আনি। দেখি পাবলিক কিভাবে রিয়াক্ট করে। মাঝে কিছুদিন সেই প্রক্রিয়া চলেছে।“
“ হুমায়ুন যদি সংখ্যালঘু ভোট কাটার ভূমিকায় নামেন, তাহলে তো আপনাদের অ্যাডভান্টেজ ?” এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ গতবার আইএসএফ নিয়েও আপনারা একইভাবে বিস্তর চর্চা করেছিলেন। রেজাল্ট কি হল? আমার মনে হয় ওই দলের সঙ্গে কোনও না কোনও পার্টির সেটিং হবে। গতবার নওশাদ সিদ্দিকী বড় বড় সভা করেছিল। আর হুমায়ুন কবির এখনও পর্যন্ত নিজের এলাকা ছেড়ে বেরোননি। তার পার্টির কী ভবিষ্যত? উনি সকালে একরকম বলেন। বিকেলে আরেকরকম। মানুষ তো এইভাবে বিশ্বাস করবে না। উনি আগে ওনার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করুন। উনি জল মাপছেন। দাম বাড়াচ্ছেন। উনি আগেও অনেক বড় বড় কথা বলেও কিছুই করতে পারেননি। উনি যদি সত্যিই ব্রিগেডে ১০ লাখ মানুষ জমা করতে পারেন নিঃসন্দেহে ওনার পার্টি একটা বড় শক্তি হিসেবে উঠে আসবে।“
বারুইপুরের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচার সভা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ ভোটে সব পার্টি অ্যাক্টিভ হয়। ওরাও করছে। আমরাও করব। ডায়লগ দিয়ে ইলেকশন জেতা যায় না। সিপিএমকে একসময় অজেয় ভাবা হতো। কেউ ভাবতেই পারেনি সিপিএম হেরে যেতে পারে। তারপর সিপিএম এমনভাবে হারল আর কোনোদিন খুঁজে পাওয়া গেল না। বিজেপি অলরেডি সাড়ে ৩ হাজার পথসভা করে ফেলেছে। আমাদের রাজ্য সভাপতি উত্তর থেকে দক্ষিণ ট্যুর শুরু করবেন। আমরাও থাকব।“
“ শীতকালে কি শীতঘুম ভাঙল দিলীপ ঘোষের?“ – এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ বলেন, “আমার শীত ঘুম ভাঙেনি। আমি রোজ ইকো পার্কে এসেছি। এখানেই আপনাদের সঙ্গে কথা বলেছি। কার কাছে কখন কার গুরুত্ব কমবেশি সেটা পার্টি জানে। দিলীপ ঘোষ আগেও যা ছিল এখনও তাই আছে। ভোটের মুখে আমাকে যে কাজ দেওয়া হল সেটাই করব।“