গ্রেফতার পরিচালক বিক্রম ভাট!

৩০ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ টলিউড অভিনেত্রী দর্শনা বনিক কিন্তু এই পরিচালকের হাত ধরে বলিউডে ভালোরকম ব্রেক থ্রু পেয়েছেন। তার ছবির ছবির মুখ্য চরিত্রে দর্শনা , যদিও তিনি অনুরাগ বসুর ‘মেট্রো ইন দিনো’তে অভিনয় করেছেন। কাজ করেছেন অনুপম খের, নীনা গুপ্তার মতো তাবড় অভিনেতাদের সঙ্গে। তবে একাধিক হিন্দি প্রজেক্টে কাজ করলেও এই প্রথম কোনও মূলধারার বাণিজ্যিক বলিউড সিনেমার মুখ্য ভূমিকায় থাকছেন দর্শনা। আর সেই সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন বিক্রম ভাটের হাত ধরেই, বিক্রম পরিচালিত থ্রিলার ঘরানার সিনেমায় মুখ্য চরিত্রে টলিউড সুন্দরী। আর সেই পরিচালকই নাকি এখন এত বড় বিপত্তির সম্মুখীন। হ্যাঁ ৩০ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার জন্য কন্যা সহ সস্ত্রীক বিক্রম ভাটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজস্থান এবং মুম্বই পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে পাকড়াও করে তাঁকে। মুম্বইয়ের ইয়ারি রোডে শ্যালিকার বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনওভাবেই যুক্ত নন বলে গ্রেপ্তারির আগে দাবি করেছিলেন পরিচালক। ঠিক কি অভিযোগ বিক্রমের বিরুদ্ধে? যেরকমটা জানা যাচ্ছে রাজস্থানের এক আইভিএফ সংস্থার মালিক তথা চিকিৎসক অজয় মুরদিয়ার সঙ্গে নাকি ৩০ কোটি টাকার প্রতারণা করেছেন বিক্রম ও তাঁর স্ত্রী এবং আরও ছয় ব্যক্তি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সাত দিন আগেই বিক্রম ভট্ট ও অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নোটিস জারি করেছিল উদয়পুর পুলিশ। নোটিসে বলা হয়েছিল, প্রত্যেক অভিযুক্তকে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে উদয়পুর পুলিশের কাছে হাজিরা দিতে হবে, অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে না। কিন্তু সেই হাজিরা না দেওয়ার পরই গ্রেফতার করা হয় বিক্রম ভাট ও তাঁর স্ত্রীকে।

এফআইআর হওয়ার পরই বিক্রম ভাট জানিয়েছিলেন যে একটি প্রস্তাবিত বায়োপিক তৈরির প্রজেক্টকে কেন্দ্র করেই প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। যা যা অভিযোগ করা হয়েছে, সব মিথ্যা, ভিত্তিহীন। ভুয়ো নথি দেখিয়ে পুলিশকে ভুল বোঝানো হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। যিনি এফআইআর করেছেন, সেই ডঃ মুর্দিয়া উল্লেখ করেছেন যে বিক্রম ভাট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাঁর প্রয়াত স্ত্রীর জীবনের উপরে ভিত্তি করে সিনেমা বানাবেন। দেশে আইভিএফের পথচলার কাহিনি তুলে ধরবে ওই সিনেমা। বিক্রম ভাটের কথায় বিশ্বাস করেই চিকিৎসক সিনেমায় বিনিয়োগ করতে রাজি হন। গত বছরের ২৫ এপ্রিল মুম্বইয়ের বৃন্দাবন স্টুডিওতে দেখা হয় পরিচালক বিক্রম ভাট-সহ তাঁর গোটা টিমের সঙ্গে বৈঠক হয় চিকিৎসকের। ওই বৈঠকে ছিলেন পরিচালকের স্ত্রী শ্বেতাম্বরী ভাট। তাঁর দাবি, বিক্রম তাকে তার পপ্রায়ত স্ত্রীকে কেন্দ্র করে বায়োপিকটির জন্য, ৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ২০০ কোটি টাকা ফেরত পাবেন বলেই জানিয়েছিলেন এর পাশাপাশি ২০২৪ সালের মে মাসে মুরদিয়া এবং ভাট পরিবারের মধ্যে এই বায়োপিক সহ মোট চারটি ছবি নির্মাণের জন্য একটি চুক্তি তৈরি করা হয়, বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রথম দুটি প্রকল্প সম্পন্ন হলেও, বাকি ছবিগুলি কখনও তৈরিই হয়নি নাকি , একটি পয়সাও ফেরত পাননি চিকিৎসক। আবার বিক্রম ভাটের দাবি, বিরাট নামের ওই সিনেমা মানে যাতে নাকি রয়েছেন দর্শনা, সেটা শেষ হওয়ার আগেই টাকা দেওয়া থামিয়ে দেন ডঃ মুর্দিয়া এবং টাকা দেওয়াও বন্ধ করে দেন একেবারে। টেকনিশিয়ানদেরও অনেক কোটি টাকা বকেয়া। সেই টাকা আদায় করতে বারবার ফোনও করেছেন। তিনি দাবি করেন, ওই বকেয়া টাকা দেওয়া এড়াতেই প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর ও বাকিদের বিরুদ্ধে।

সময়টা সত্যিই একেবারে ভালো যাচ্ছে না তার, এর আগে অক্টোবরে মুম্বইয়ে তাঁর আন্ধেরির অফিস থেকে চুরি যায় একাধিক ব্যক্তিগত হার্ড ডিস্ক ও মোবাইল ফোন, আর তাঁর বিশ্বাস এই কাজ করেছে তাঁরই সংস্থার দুই কর্মী। পরিচালক জানান, গত মার্চ মাস থেকে তাঁর অফিস থেকে একের পর এক হার্ড ডিস্ক নিখোঁজ হতে থাকে। পরিচালকের সন্দেহ হয়, সেই হার্ড ডিস্কগুলোতে থাকা চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ শুটিং ফুটেজ গোপনে সরিয়ে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকী, ফুটেজগুলো বিকৃতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন বিক্রম ও তাঁর স্ত্রী শ্বেতাম্বরী ভাট। উল্লেখ্য, বিক্রম ভাট একসময়ে ‘রাজ’, ‘হেট স্টোরি’, ‘১৯২০’, ‘কসুর’, ‘গুলাম’, ‘অ্যাতবার’-এর মতো একাধিক ছবি উপহার দিয়েছেন। তবে বর্তমানে খান-কাপুরদের দৌড়াত্ম্যে কিছুটা ‘ব্যাক ফুটে’ই মহেশ, মুকেশ-বিক্রমদের ভাট ক্যাম্প! বিক্রমের ‘হেট স্টোরি’র হাত ধরেই বলিউডে ব্রেক পেয়েছিলেন পাওলি দাম। এবার এই বিপদ থেকে কিভাবে উদ্ধার পান বিক্রম সেটাই দেখার।