চাঁদের মধ্যে গভীর মহাসাগরের সন্ধান! নতুন গবেষণায় উঠে এল এমনই তথ্য। যাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন করে গবেষণা।

নাজিয়া রহমান, নিজস্ব সংবাদদাতা: চাঁদে গভীর মহাসাগরের সন্ধান। এই মহাসাগরের সন্ধান পাওয়া গেছে ইউরেনাসের একটি উপগ্রহে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে ইউরেনাসের একটি উপগ্রহে তরল জলের সমুদ্র লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা প্রবল, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে এমনই কিছু তথ্য ধরা পড়েছে।
তাই বিজ্ঞানীদের অনুমান,ইউরেনাসের চাঁদগুলির মধ্যে বিশেষ করে এরিয়েলের মতো বড় কোনও উপগ্রহে কোনও এক সময় গভীর মহাসাগরের কোনও অস্তিত্ব ছিল। JWST-এর দ্বারা ২১ ঘন্টা পর্যবেক্ষণ করার পর, বিজ্ঞানীরা দেখতে পান যে ইউরেনাসের চাঁদ এরিয়েলের পৃষ্ঠে কার্বন ডাই অক্সাইড বরফের উপস্থিতি রয়েছে। আর সেই থেকেই বিজ্ঞানীদের অনুমান, যে কার্বন ডাই অক্সাইড বরফটি ইঙ্গিত দেয় যে এরিয়েলের পৃষ্ঠের নীচে একটি তরল সমুদ্র কোনও এক সময় বর্তমান ছিল।পাশাপাশি মহাকাশযান ভয়েজার ২–তে ধরা পড়া বেশ কিছু ছবি থেকে যা উঠে এসেছে তা দেখে অবাক হওয়ার মতো। ইউরেনাসের মধ্যে থাকা একটি ক্রেটার বা গর্তের মধ্যে উপত্যকার অস্তিত্ব রয়েছে। এছাড়াও গবেষকদের অনুমান, ইউরেনাসে জলের স্তর প্রায় ১৬০ কিলোমিটার বা ১০০ মাইল গভীর ছিল।
বিজ্ঞানীদের অনুমান ইউরেনাসের উপগ্রহ অর্থাৎ চাঁদের মসৃণ সমতলভূমি সম্ভবত ক্রায়ো-ভল -কানিজমের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল। সেখানে জল ও অন্যান্য পদার্থ বা কাদামিশ্রিত বরফ অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে নির্গত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে, যা দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের ইঙ্গিত দেয়। এরিয়েল চাঁদের কক্ষপথ পুরোপুরি গোলাকার ছিল না বলে মত গবেষকদের। সামান্য ডিম্বাকৃতির ছিল বলে ইউরেনাসের চারপাশে প্রতিবার ভ্রমণের সময় চাঁদটির অভ্যন্তরে জোয়ার–ভাটার চাপ অনেক বেড়ে যেত বলে অনুমান বিজ্ঞানীদের ।পাশাপাশি এরিয়েলের পৃষ্ঠে অ্যামোনিয়া যৌগের উপস্থিতিও শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। অ্যামোনিয়া দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। ফলে অ্যামোনিয়া সেখানকার জলের তাপমাত্রা কমিয়ে দিয়েছিল বলে ধারণা গবেষকদের।

জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি অ্যাপ্লায়েড ফিজিকস ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, ‘আমরা প্রমাণ পাচ্ছি, ইউরেনাস সিস্টেমে দুটি মহাসাগর ছিল।’ অন্যদিকে প্ল্যানেটারি সায়েন্স ইনস্টিটিউটের অ্যালেক্স প্যাথফ বলেন, ‘যেভাবেই হোক, এরিয়েলের পৃষ্ঠে আমরা যে ফাটলগুলো দেখছি, তা তৈরি করতে একটি মহাসাগর থাকা প্রয়োজন।’
এখন প্রশ্ন এরিয়েল কি? বৈজ্ঞানিকদের মত অনুযায়ী, সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ হল ইউরেনাস। এই গ্রহের চারপাশে ঘুরতে থাকা ২৮টি চাঁদের মধ্যে এরিয়েল একটি। জানা গেছে, উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের “দ্য টেম্পেস্ট” নাটকের একটি চরিত্রের নামে ইউরেনাসের এই চাঁদের নামকরণ করা হয়েছে। এই চাঁদ বা এরিয়েলের মধ্যে বেশ কয়েকটি গিরিখাত এবং মসৃণ অঞ্চল এই চাঁদে বরফের পৃষ্ঠ তৈরি করেছে। এরিয়েলের প্রথম ছবি তোলা হয়েছিল ১৯৮৬ সালে নাসার ভয়েজার ২ দ্বারা, যা এর পৃষ্ঠের এক তৃতীয়াংশের ছবি তুলতেই সক্ষম হয়েছিল। সম্প্রতি এরিয়েল এবং অন্যান্য উপগ্রহগুলি নিয়ে ফের জোর কদমে শুরু হয়েছে গবেষণা। উপগ্রহগুলি থেকে পাওয়া নতুন কিছু তথ্য পাওয়ায়, বিজ্ঞানীরা নাসাকে ইউরেনাস সিস্টেম পরিদর্শনের জন্য মিশন পরিকল্পনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে, শুধুমাত্র এই মহাজাগতিক বস্তুগুলিতে ভ্রমণ করতে প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর সময় লাগতে পারে। তাই কম সময়ে এই মহাজাগতিক বস্তুগুলিকে কিভাবে পরিদর্শন করা হয় তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।