হাওড়ায় বিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা

উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জুনিয়র মহিলা চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩

রণজিৎ রায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: ২০২৪-এ আরজিকর কাণ্ডের বিশ্বজোড়া প্রতিবাদের পরও কোনও সমাধান হল না। সুবিচার পেলেন না নির্যাতিতার মা-বাবা। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই উলুবেড়িয়া শরৎ চন্দ্র মেডিকেল কলেজে জুনিয়র মহিলা চিকিৎসকের নিগ্রহের ঘটনা আবারও রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ সুপার অফিস চলো অভিযান শুরু করেছিল বঙ্গ বিজেপি। অফিসের কিছুটা আগেই জমায়েত করে মিছিল করে এগোতে গেলে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয় পুলিশ। আগে থেকেই লোহার ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছিল সার্ভিস রোডে। ব্যারিকেড টপকে এগোতে গেলে বাধা দেন পুলিশকর্মীরা। এরপরই শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে বচসা ও ধস্তাধস্তি। হাওড়া গ্রামীণের বিজেপি সভাপতি দেবাশিস সামন্ত জানাচ্ছেন, “সারা রাজ্যে মহিলারা সুরক্ষিত নন। উলুবেড়িয়া হাসপাতালে যে ঘটনা ঘটল তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল মহিলারা নিরাপদ নন। তাই প্রশাসনকে মহিলা নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। তা নাহলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বিজেপি।“

বিজেপি নেতা উত্তম মল্লিক জানাচ্ছেন, “উলুবেড়িয়া হাসপাতালে ডাক্তার দিদির উপর যেরকম আক্রমণ করা হয়েছে, তা ঘৃণ্য। বাবুলালের নেতৃত্বে এই হামলা করা হয়েছে। ওই বাবুলালকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে তৃণমূলের বা কোনও দুষ্কৃতী মহিলাদের দিকে চোখ তুলে তাকাতে না পারে। “

হাওড়ায় বিজেপির এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর থাকার কথা থাকলেও তিনি বিশেষ কাজের জন্য তিনি মিছিলে যোগ দিতে  পারেননি।

হাওড়ার হাসপাতালে জুনিয়র মহিলা চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনায় আগেই এক ট্রাফিক হোমগার্ড-সহ দুজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বুধবার তৃতীয় অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করা হল। মূল অভিযুক্ত শেখ বাবুলালকে অস্থায়ী হোমগার্ডের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সূত্রে খবর, নতুন ধৃত ব্যক্তির নাম শেখ সম্রাট। সোমবার সন্ধ্যায় উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যখন ঘটনাটি ঘটে, তখন সম্রাট বাবুলালের পরিচিত হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিল সে।

সোমবার সন্ধ্যায় এক আত্মীয়কে নিয়ে উলুবেড়িয়ার ওই হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে যায় বাবুলাল। সঙ্গে ১০-১২জন ছিল। প্রসূতি বিভাগে কর্মরত ছিলেন মহিলা জুনিয়র চিকিৎসক। ট্রাফিক হোমগার্ডের আত্মীয়ের শারীরিক পরীক্ষার পর তিনি কিছুক্ষণের জন্য হাসপাতালের রেস্ট রুমে গিয়ে বসেছিলেন। অভিযোগ,  তখনই দলবল নিয়ে ওই জুনিয়র চিকিৎসকের উপর চড়াও হয় বাবুলাল। মারধরের পাশাপাশি  ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। চেঁচামিচি শুনতে পেয়ে ওই জুনিয়র চিকৎসককে উদ্ধার করেন ওয়ার্ডের নার্স এবং আয়ারা।